আগামীকাল অ্যাগেস বোলে স্বাগতিক হ্যামশায়ারের বিপক্ষে একদিনের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দীর্ঘ ইংল্যান্ড সফরের খেলা। এই সফর নিয়ে খুবই রোমাঞ্চিত বাংলাদেশ দল।
দলের প্রধান কোচ কোরি রিচার্ড বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মাধ্যমে দেয়া সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন এই সফরের সম্ভাবনা, প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জের কথা—
এই সফরে আপনার দলের লক্ষ্যটা কী? কন্ডিশন কেমন চ্যালেঞ্জিং হবে?
আমাদের লক্ষ্য সব ম্যাচ জেতা। আমরা বাংলাদেশ দলে এই সংস্কৃতিটাই গড়ে তুলতে চাচ্ছি যে, আমরা যে কোনো দলের বিপক্ষে জিততে পারি। কন্ডিশনটা খুব বড় দুশ্চিন্তা নয়। তবে সফরটা খুব চ্যালেঞ্জিং হবে ইংলিশদের শক্তির কথা বিবেচনা করলে। গত কিছুদিন ধরে ইংল্যান্ড যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থায় আছে। তারা লায়ন্সের তিনটি ম্যাচেই খুব শক্তিশালী দল নামাবে বলেই মনে হচ্ছে।
‘এ’ দলের হেড কোচের ভূমিকাটা কেমন উপভোগ করছেন?
একটা দলের পুরোপুরি কতৃত্বটা অবশ্যই খুব উপভোগ করছি। আমি আর শেন (জার্গুনসেন) জাতীয় দলে একসঙ্গে কাজ করছি। ও এখন এক ধাপ সরে আমাকে এই সফরে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। আমিও সুযোগটা কাজে লাগাতে মুখিয়ে আছি।
অভিজ্ঞতার দিক থেকে এই সফরটা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ হবে?
ইংল্যান্ড সফর সবসময়ই খেলোয়াড়দের জন্য অনন্য একটা অভিজ্ঞতা। এখানে যে আটটা ম্যাচ খেলবো, সবগুলোই সম্ভবত খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। ইংল্যান্ডের কন্ডিশন বাংলাদেশের চেয়ে একটু ভিন্ন। আপনি দল হিসেবে যদি আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে আরো ধারাবাহিক গয়ে উঠতে চান, তাহলে খেলোয়াড়দের যতো বেশি সম্ভব ভিন্ন কন্ডিশনে খেলার সুযোগ করে দিতে হবে। পরে সিনিয়র দল যখন বিদেশে যাবে, এদের এই অভিজ্ঞতাটা দারুণ কাজে দেবে।
ট্রেনিং ক্যাম্পটা সবমিলিয়ে কেমন হলো?
দেখুন কয়েক বছর পরে যখন এই ট্রেনিং ক্যাম্পটার কথা মনে করা হবে, মনে হবে এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। খেলোয়াড়রা প্রকাশ্যে আমাদের বলেছে, তারা জীবনেও ফিটনেস নিয়ে এতো কাজ, স্ট্রেন্থ নিয়ে এতো পরিশ্রম কখনো করেনি। শুরুতে কিছু সমস্যার পর খেলোয়াড়রা আবিষ্কার করেছে, তাদের সার্বিক ফিটনেসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
বাংলাদেশ দলের সঙ্গে তো বেশ কিছুদিন আছেন। আপনাকে কোন ব্যাপারটা সবচেয়ে মুগ্ধ করেছে?
প্রতিটা খেলোয়াড়ের যে নতুন কিছু শেখার দারুণ আগ্রহ, এটা দেখে আমি সবচেয়ে মুগ্ধ হয়েছি। এদের কাজের যে নৈতিকতা সেটা এক কথায় চমত্কার; অধিনায়ক মুশফিক এই ব্যাপারটাতেও সবার সামনে আছে।
আপনার এই দলের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক কোনটা? ইংল্যান্ডে কারা সবচেয়ে ভালো করবে?
আমরা এই সফরের জন্য খুবই ভারসাম্যপূর্ণ একটা দল নিয়ে এসেছি। দলে বেশ কয়েকজন মাল্টি-স্কিলড খেলোয়াড় আছে, কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, আছে কয়েকজন তরুণ ও উঠতি ক্রিকেটার। আমরা ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং দিন দিকেই ভালো করবো বলে মনে হয়। ফলে ট্যুরটা নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত।
সোহাগ গাজীকে বলা যায় গত সিরিজের আবিষ্কার। আপনার কী মনে হয়, ইংল্যান্ডে একইরকম ভালো করতে পারবে সে?
আমি তাই বিশ্বাস করি। ও খুবই প্রতিভাধর খেলোয়াড়। ভালো ব্যাট করে, ভালো বল করে, ভালো ফিল্ডিং করে। আমি বিশ্বাস করি, সে ইংল্যান্ডে বিশেষ করে একটু শুকনো উইকেটগুলোতে খুব ভালো বল করবে।
