ভাগ্য আর উইকেটের কৃতিত্ব দেখছেন সাকিব

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:০০
আগের ম্যাচটায় ম্যাচসেরার পুরস্কার দিতে উপস্থিত ছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স। মাত্র ১ উইকেট নিয়ে কৃপণ বোলিংয়ের কারণে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। স্যার সোবার্স হয়তো একটু অবাকই হয়েছিলেন—এই ছেলেটিকে কেন তার উত্তরসুরী বলা হয়! কাল মাঠে ছিলেন স্যার সোবার্স? থাকলে নিশ্চিত এই প্রশ্নের জবাব পেয়ে গেছেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিব আল হাসান কী, তা হয়তো সোবার্স এখনও দেখেননি। তবে তারই ঘরের মাঠে তারই মতো বাহাতি স্পিনে কাল ইতিহাস তৈরি করে ফেলা বোলিং করে ফেললেন সাকিব আল হাসান। অবশ্য ম্যাচশেষে সাকিব তার চিরচেনা ভঙ্গিতে যেভাবে ‘সাফল্যের রহস্য’ বর্ণনা করলেন; তাতে তিনি ইতিহাস-টিতিহাস করেছেন বলেই মনে হয় না। বরং উইকেটকে বেশ একটু কৃতিত্ব দিয়ে সাকিব খুব সরল ভঙ্গিতে এসে বললেন, ‘আমি বিশেষ কিছু করিনি। সঠিক লাইনে, জায়গামতো বল ফেলে যেতে চেয়েছি। উইকেট একটা ভূমিকা অবশ্যই রেখেছে। হ্যা, বাজে বল করে তো আর এতোগুলো উইকেট পাওয়া যায় না। তবে স্পেশাল কিছু করিনি।’ ‘স্পেশাল কিছু’ যে করেননি, সেটা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেন। বললেন, আসলে ভাগ্যেরও একটা ভূমিকা আছে তার এই অর্জনে। রীতিমতো যুক্তি দিয়ে ভাগ্যের অবদান বোঝাতে চাইলেন, ‘আমি ভালো ডেলিভারি প্রতি ম্যাচে, প্রতিটা বলেই দিতে চাই। কিন্তু পাঁচ-ছয় উইকেট আপনি ভাগ্যের সহায়তা ছাড়া পাবেন না। সেটা পেয়েছি। সঙ্গে উইকেট বেশ সাহায্য করেছে।’ ভাগ্য, উইকেট আর জায়গামতো বল করা মিলিয়ে সাকিব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের স্বল্পদৈর্ঘ্য ইতিহাসের দ্বিতীয় সেরা বোলিং পারফরম্যান্স করে ফেলেছেন। সাকিব ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিপক্ষে ৬ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। এর চেয়ে ঠিক এক রান কম দিয়ে ৬ উইকেট নেওয়ার ইতিহাস আছে সমারসেটের মালয়েশিয়ান ক্রিকেটার অরুল সুফিয়ার। এখন সাকিবের সামনে চ্যালেঞ্জ বোলিংয়ে এই ভালো ফর্ম ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের ফর্মটা ফিরিয়ে এনে অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের পরিচয়টাকে প্রমাণ করে আসা। সেজন্য সাকিবের দলকে আগামী ম্যাচ খেলতে যেতে হবে তামিমের দল সেন্ট লুসিয়া জুকসের হোম গ্রাউন্ডে। প্রথম তিনটি ম্যাচেই জয় পাওয়া বারবাডোজ এই তিনটি ম্যাচই নিজের হোমে খেলেছে। ফলে শুধু সাকিবের নয়, পুরো দলের জন্য পরীক্ষা তারা বাইরে কেমন করবে। সাকিব নিশ্চিত তার দল ভালো করবে। আর ব্যক্তিগতভাবে তিনি প্রতিটি ক্যারিবিয় দ্বীপের পরিবেশই উপভোগ করবেন বলেই তার বিশ্বাস, ‘এখন পর্যন্ত যা দেখছি, পরিবেশ-সমর্থকরা সত্যিই চমত্কার। আশা করি বাইরের দেশগুলোতেও তাই হবে। আমি পরের ম্যাচ খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।’ আর বাংলাদেশ মুখিয়ে থাকবে সেদিন আরেকটা সাকিব-তামিম লড়াই দেখার জন্য।