শেষ মুহূর্তে ভিড় সুরমা আতর টুপির দোকানে

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪২
ঈদ প্রস্তুতির শেষ পর্বের কেনাকাটায় থাকে সুরমা, আতর, টুপি। ঈদের নামাজ পড়তে তাই আতর, সুরমা, টুপির দোকানে ভিড় জমিয়েছেন ক্রেতারা। এই কেনাকাটা চলবে ঈদের দিন নামজের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। ঈদের দিন সকালে নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবির সঙ্গে দরকার সুরমা, আতর, টুপি, তসবি আর জায়নামাজের। একমাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের নামাজে আতর ও সুরমার ব্যবহার একদিকে যেমন সুন্নত আদায় হয়, তেমনি সুগন্ধির কারণে মনে একটা প্রফুল্ল ভাব আসে। শিশু থেকে বৃদ্ধ— সবাই ঈদের এই দিনে চোখে সুরমা টেনে গায়ে খুশবু মেখে নামাজ পড়তে পছন্দ করেন। সে কারণে রোজা শেষের দিনগুলোতে ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন আতর সুরমার দোকানে। সেই সাথে বিক্রি হচ্ছে জায়নামাজ, টুপি, তসবি। আতর সুরমা কিনতে বেশি দেখা যায় কিশোর ও বয়োজ্যেষ্ঠদের। ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম খুবই চড়া। আতর কিনতে আসা হায়দার আলী বলেন, ঈদ উপলক্ষে সবাই আতর, সুরমা, টুপি, তসবি কিনেন, যার কারণে দোকানিরা দামটা কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। গতকাল বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর কয়েকটি আতর, সুরমা, টুপির দোকান ঘুরে দেখা গেছে, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বাজারে সুরমা, আতর, টুপির বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। আতর বিক্রেতা সোহরাম মিয়া বলেন, তার দোকানে সৌদি আরবের ‘উদ আতর, লর্ড আতর’ আছে। এসব আতর তৈরি হয় সৌদি আরবে, শিশির মুখে সিলগালা করা আছে। তার দোকানে আরো আছে ফেরদৌস, কিসওয়াতুল কাবা, দিলরুবা, আম্বর কস্তুরি, জেসমিন, ইরানি নামের এসব আতর। এসব আতরের দাম পড়বে ১৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দেশি আতর পাওয়া যাবে ৪০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা পর্যন্ত। বায়তুল মোকাররম এলাকার দোকানি মোশারফ হোসেন বলেন, দেশি আতরের চাহিদা বেশি। এবার বিভিন্ন ফুলের সুগন্ধের আতরগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে দুবাই, ভারত, সৌদি আরব, ফ্রান্সের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আতরের চাহিদা বেড়েছে। এসব আতর তোলা হিসেবে কিনলে অনেক টাকা দাম পড়ে। তাই সবাই ৩ মিলি লিটারের ছোট শিশিতে আতর কিনেন বেশি। এতে টাকা যেমন কম পড়ে তেমনি অনেক ধরনের আতর সংগ্রহে রাখা যায়। জোহরের নামাজ পড়ে বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে টুপি কিনছেন আতাউর খন্দকার। তিনি বলেন, বাড়ি সেগুনবাগিচায় হওয়ায় এই মসজিদে নামাজ পড়ার সৌভাগ্য হয় সবসময়। তিনি বলেন, বেশ কদিন থেকে আতর-সুরমার বিক্রি বেড়েছে। বাসায় সুরমা-আতর সবই আছে তার পরেও নতুন জিনিস কেনার আনন্দই আলাদা। সবাই কিনছে তাই দেখে আবারও একটি আতর ও পাঁচ বছরের পুত্রের জন্য তিনি একটি কালোর উপর সোনালী কাজের টুপি কিনেন। বায়তুল মোকাররম ছাড়াও পুরান ঢাকার চকবাজার, মিটফোর্ড, ইসলামপুর, ওয়াইজ ঘাট, নিউ মার্কেট এলাকায় আতর, টুপি ও জায়নামাজের দোকান বেশি। নিউ মার্কেট এলাকার দোকানিরা জানান, এবার দুবাই, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জায়নামাজও পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম কিছুটা বেশি। আতর, টুপি, তসবিও পাওয়া যাবে নানা দেশের। বাংলাদেশে মূলত আল হারমাইন, আজমল, তিহামা, হামিল আল মিক্স, সুরাটি প্রভৃতি কোম্পানির আতর বেশি চলে বলে জানান তিনি। সুরমার ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও ভারতীয় সুরমার চাহিদা বেশি। পাকিস্তানি হাশেমী সুরমার দাম ১০০ টাকা, লতিফ সুরমা ৫০ টাকা, ভারতীয় খোজাতি সুরমা ৫০ টাকা, মোমিরা ৫০ টাকা। আর দেশি সুরমা পাওয়া যাচ্ছে ২০ টাকার প্যাকেটে। ঈদের নামাজে রংবেরঙের টুপি পরতে পছন্দ করেন শিশু-কিশোররা। এ কারণে ঈদের সময় সৌখিন টুপির কদর বেশি। দোকানগুলোতেও তাই দেখা যায়, থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে রংবেরঙয়ের সব বাহারি টুপি। কাশ্মিরী পাথর বসানো নকশা করা টুপির দাম ৫৫০ টাকা। জর্দানি টুপির দাম ৬০০, জিন্নাহ টুপির দাম ১২০০, নেপালী টুপি ৩৫০, চায়নারুমী টুপির দাম ৩৫০ টাকা। এছাড়া সাদা কাপড়ে রঙিন সুতোর নকশা করা টুপি ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।