নেপালে অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতায় গতকাল সোমবার দলটির ডাচ কোচ রেনে কেস্তারকে কৈফিয়তের জন্য ডেকেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। যদিও কোচের দেয়া বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বাফুফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তবে নিজের সমর্থনে রেনে অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দিয়ে তাতে কিছু পরামর্শ রেখেছেন বাফুফের উদ্দেশ্যে।
বাফুফের সহ সভাপতি ও ডেভেলপম্যান্ট কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় কাল দুপুরে তার রুমে ডেকে রেনে কেস্তারের কাছে জানতে চান জুনিয়র সাফে বাংলাদেশ কী কারণে ব্যর্থ হলো। কোচ কি ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা বিশদ না জানালেও বাদল রায় উড়িয়ে দিয়েছেন তার ‘খোঁড়া’ যুক্তি। বাফুফের এই কর্মকর্তা বলছেন রেনে কেস্তারের বক্তব্য সাংঘর্ষিক। একবার বলেছেন দল গঠন করাটা সঠিক হয়নি। আবার বলছেন এই দলে কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে যারা জাতীয় দলে খেলতে পারেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ১১ জনের নামও উল্লেখ করেছেন। বাদল রায়ের প্রশ্ন যদি ১১ জন ভালো খেলোয়াড় থেকে থাকে তাহলে বাংলাদেশ খারাপ রেজাল্ট করল কেন।
নেপালের অনূর্ধ্ব-১৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত চ্যাম্পিয়ন, নেপাল রানার্সআপ ও বাংলাদেশ তৃতীয় হয়েছে। বাংলাদেশ এবারের জুনিয়র সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ৩-১ গোলে শ্রীলংকাকে হারায়, ভারতের কাছে ০-২ ও নেপালের কাছে ১-৫ গোলে হারে এবং আফগানিস্তানকে ১-০ গোলে হারায়।
নেপালে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলটি গঠন করেছিলেন দেশীয় কোচরা। তাদের অধীনেই প্রস্তুতিরত দলটিকে শেষ মুহূর্তে ডাচ কোচ রেনের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। রেনে দায়িত্ব নিয়ে দেশি কোচদের উপেক্ষা করে সব সিদ্ধান্ত একাই নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এটা নিয়ে ক্ষুব্ধ বাদল রায় পরিষ্কার জানিয়েছেন এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। যেহেতু দেশীয় কোচরা শুরু থেকেই কাজ করেছেন তাই তাদের সহযোগিতা নেয়া দরকার ছিল। দেশীয় কোচ ছিলেন গোলাম রাব্বানী ছোটন, পারভেজ বাবু এবং শেখ শুক্কুর মোহাম্মাদ টোমাম। ব্যর্থতা প্রসঙ্গে বাদল রায় রেনেকে বলেছেন, ‘আমাদের জুনিয়র দল কখনো নেপালের কাছে ৫ গোল গোল হজম করেনি। তোমার তো ভাগ্য ভালো, ফুটবলের আগের সময়টা থাকলে বুঝতে পারতে।’
রেনে বলেছেন, নেপালের বিরুদ্ধে তার ছেলেরা প্রথম দিকে খেলাটা ধরতে পারেনি। নার্ভাস ছিল। দশরথের স্টেডিয়ামে ১৫ হাজার দর্শক খেলা দেখেছে সেদিন। বাদল রায় বলছেন, ‘স্বাগতিক দেশের বিরুদ্ধে খেলা হলে যেমনি আলাদা প্ল্যান থাকা উচিত ছিল তেমনি প্রতি ম্যাচেই পৃথক কৌশল থাকা দরকার ছিল।’
রেনে কেস্তার তার রিপোর্টে বলেছেন নেপালে সুযোগ সুবিধা ভালো ছিল না। এক বিছানায় দুইজনকে রাখা হয়। রুমে এসি ছিল না। খাবার ভালো ছিল না। মানহীন খাবার খেয়ে পাঁচজন হাসপাতালে গিয়েছিলেন।’ ডাচ এই কোচ গোলকিপারদের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট নন জানিয়ে নিজের রিপোর্টে এও উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান দলটিকে তার অধীনে রেখে কোচিং দেয়া হলে ভবিষ্যতে ভালো দলে পরিণত হবে।
এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন ডেভেলপম্যান্ট কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায়। কারণ তিনি মনে করেন রেনে কেস্তারকে তো রাখাই হয়েছে একাডেমির জন্য। তিনিও নাকি অনূর্ধ্ব-১৬ দল নিয়ে থাকতে চান। বাদল রায় বলছেন জুনিয়র দলগুলোকে কাঙ্ক্ষিত মানের দলে পরিণত করতে হলে ভালো মাঠে নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলনের পাশাপাশি ভাল সুযোগ সুবিধা দেয়া উচিত।
এদিকে রেনে কেস্তারের রিপোর্টে ভালো খেলোয়াড় হিসাবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন মিথুন সরকার, টুটুল হোসেন বাদশা, আলামিন, রহমত মিয়া, শাওন হোসেন, আতিকুজ্জামান, মোজাফফর হোসেন, অনিক হোসেন, আলামিন তুষার, রবিউল হাসান এবং বিশ্বনাথ ঘোষ।
