গত বোর্ড সভাশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এডহক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ঈদের আগে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দেশি খেলোয়াড়দের এ পর্যন্ত পাওনা টাকা বোর্ড পরিশোধ করে দেবে। কিন্তু গতকাল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বললেন, সব খেলোয়াড়ের টাকা ঈদের আগে পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলছেন, কয়েকটি দল মালিকের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণের কারণে সব খেলোয়াড়ের পাওনা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। গতকাল ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের (সিসিডিএম) আয়োজনে ইফতার মাহফিলের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বললেন মল্লিক।
গতকালকের ইফতার আয়োজনটা কার্যত ক্রিকেট পাড়ায় এক মিলনমেলায় পরিণত হল। যদিও আয়োজক সিসিডিএম বলে আশা করা যাচ্ছিল আলোচনা হয়তো প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে বেশি হবে। তা হল না। এমনকি বিসিবির সাবেক সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল ও বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন উপস্থিত থাকার পরও বিসিবির নির্বাচন নিয়েও তেমন কোনো কথা হল না। কথা যা মল্লিক বললেন বিপিএল নিয়ে।
বিপিএলে পাওনা বিষয়ক সংকট আজকের নয়। টুর্নামেন্ট চলা অবস্থাতেই নির্ধারিত টাকা না পাওয়ায় বিদেশি খেলোয়াড়রা বেঁকে বসে একেবারে আন্তর্জাতিক খবর তৈরি করে ফেলেছিলেন। পরে বিসিবির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও পাওনা নিয়ে জটিলতা কমেনি। শেষ পর্যন্ত জামিনদার হিসেবে বিসিবি বিদেশি খেলোয়াড়রা যারা টাকা পাননি, তাদের পাওনা পরিশোধ করেছে।
কিন্তু দেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে সংকট থেকেই গেছে। সেই ১৯ ফেব্রুয়ারি বিপিএলের দ্বিতীয় আসর শেষ হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আইনত খেলোয়াড়দের মোট পাওনার ৫০ শতাংশ হাতে থাকার কথা ছিল। কিন্তু মাত্র দুটি দল ছাড়া কোনো দলই এ টাকা বিসিবির কাছে দেয়নি। বাকী দলগুলো দেশি খেলোয়াড়দের মাত্র প্রথম কিস্তি, মানে ২৫ শতাংশ টাকা পরিশোধ করেছে। সর্বশেষ বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তারা নিজেরাই বাকী ২৫ শতাংশ টাকা পরিশোধ করে দেবে ঈদের আগে।
কিন্তু মল্লিক বলছেন, সেটাও সব খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি, ‘কয়েকটি ফ্রাঞ্চাইজির অসহযোগিতার কারণে এই টাকাটা সব খেলোয়াড়কে দেয়া গেল না। খেলোয়াড়দের টাকা দিতে হলে আমাদের জানতে হত, কোন খেলোয়াড়ের কতো টাকা পাওনা আছে, অন্য কোনোভাবে পরিশোধ হয়েছে কি না। সে জন্য আমরা দলগুলোর কাছে হিসাব চেয়েছিলাম। কয়েকটি দল মালিক এই হিসাব না দেয়ায় তাদের খেলোয়াড়দের আমরা টাকাটা দিতে পারিনি।’
এখনও দ্বিতীয় আসর নিয়ে চলছে জটিলতা। এর মধ্যে আবার বিসিবি ঘোষণা করে দিয়েছে পরের মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডার। এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসেই আয়োজন হওয়ার কথা বিপিএলের দ্বিতীয় আসর। কিন্তু এসব জটিলতা রেখে কী এই আসর আয়োজন করা যাবে?
ইসমাইল হায়দার মল্লিক আশাবাদী কথা শোনালেন। প্রয়োজনে কঠোরতম পদক্ষেপ নিয়ে হলেও পরের বার পরিষ্কার বিপিএল আয়োজন করতে চান তারা, ‘বোর্ড সভাপতি আগেই বলেছেন, যারা একেবারেই নিয়ম মানবে না, প্রয়োজনে তাদের বাদ দিয়ে দেয়া হবে। আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েই এগোবো।’
সমস্যা হল, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলর এতোকিছুর পর আর বিদেশি খেলোয়াড়দের বিপিএল খেলার ব্যাপারে আশ্বস্ত করতে পারবে কি না।
