গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ তাদের এক বিশ্লেষণে বলেছে, সামপ্রতিক সময়ের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দেশের মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির গতি ক্রমহ্রাসমান করে দেয়ার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুনরায় প্রবৃদ্ধি-সংকোচনীয় মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের গবেষণায় এ কথা জানিয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, গত দুই আর্থিক বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গতি নিম্নমুখী, বিনিয়োগে মন্দাবস্থা বিরাজমান, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস পাচ্ছে। একই সঙ্গে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না, সুদের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সর্বোপরি বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষায় ভারসাম্য মুদ্রানীতির নামে টানা পঞ্চমবারের মত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সংস্কার কর্মসূচির শর্তাবলী অনুসরণ করতে গিয়ে বেসরকারি খাতের ঋণের সরবরাহ, বিনিয়োগ এবং প্রবৃদ্ধির গতি হ্রাস করতে হচ্ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে ২০১১-১২ তে কমে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১২-১৩ সালে তা আরও কমে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
উন্নয়ন অন্বেষণ মনে করে, উচ্চ সুদের হারের জন্য বেসরকারি ঋণের প্রবাহ কমে গিয়ে বিনিয়োগকে আরো ব্যাহত করতে পারে যা জাতীয় উত্পাদনকে কমিয়ে দিবে। এদিকে শিল্পের উত্পাদন সূচকে বর্তমান নিম্নগামিতাকে চিহ্নিত করে গবেষণায় বলা হয়েছে, শিল্প উত্পাদনের সাথে মুদ্রানীতি সরাসরি সম্পর্কিত এবং শিল্প ঋণের প্রবৃদ্ধির হারের নিম্নগামিতা লক্ষ্য করা গেছে। ধারাবাহিকভাবে গৃহীত সংকোচনমূলক মুদ্রনীতি বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে মোট দেশজ উত্পাদনের প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে বাঁধা দিচ্ছে। বিগত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছিল ১৮.৫ শতাংশ, কিন্তু অর্জিত হয়েছে মাত্র ৮.৮৯ শতাংশ। বর্তমান মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা হ্রাস করে ১৫.৫ শতাংশ ধরা হয়েছে।
