খালিয়াজুরী উপজেলার জগন্নাথপুর উত্তরপাড়া গ্রামের তাছলিমা। শিশু বয়সে তার বিয়ে ও সন্তান ধারণ করার ফলে তাকে কাঁদতে হলো মৃত শিশু জন্ম দেয়ার যন্ত্রণায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিশু বয়সে বিয়ে হবার প্রথম বছরেই তাছলিমার পেটে যখন ধারণ করল আরেকটি শিশু, তখন সে বুঝে ওঠেনি কিভাবে জন্ম দিতে হয় সুস্থ শিশুর।
তাছলিমার স্বামী তারেক মিয়া (১৬) জানান, আমি যহন বিয়া করছি তহন আমার বউয়ের বয়স মাত্র ১৩ বছর। বিয়ার ১ বছরের মইধ্যেই আমার বউয়ের পেডে বাইচ্চা আইছে। কম বয়সে না বুইঝজা বাইচ্চা নিলে কি অয় এইডা আমরা আগে বুঝজিনা। বিশেষজ্ঞ মহল জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছরের আগে সবাই শিশু। নারীর ১৮ ও পুরুষের ২১ বছর পূর্ণ না হয়ে যদি বিয়ে হয় সেটা হবে শিশু বিয়ে। তাছলিমারা সেই শিশু বিয়ের কুফল আর গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন সেবা সম্পর্কে বুঝতে পারেনি বলেই গত ৬ আগষ্ট তাদের জন্ম নেয়া বাচ্চাটি মায়ের পেটেই মারা গিয়েছিল। সচেতন মহল জানান, হাওর পাড়ের এই খালিয়াজুরী উপজেলায় অজ্ঞতা, অসচেতনতা আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে প্রতিনিয়ত তাছলিমার মতো অসংখ্য শিশুর বিয়ে হচ্ছে এবং তাদের অনেকেই মৃত সন্তান দিচ্ছেন। শিশু বয়সে সন্তান দিতে গিয়ে কখনো কখনো মা নিজেও মারা যাচ্ছেন।
