ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং দমন করার জন্য দণ্ডবিধি আরোপ করার পরামর্শ দিলেন সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। দ্য ওয়াল খ্যাত এই কিংবদন্তী মনে করেন, আইন প্রণয়ন ও বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকেই খেলোয়াড়দের সচেতন থাকার শিক্ষা দিলে এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
স্পট ফিক্সিং ক্রিকেটে কোন নতুন বিতর্ক না হলেও এই বছরই সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ করে। স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে দিল্লী পুলিশ গ্রেফতার করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দল রাজস্থান রয়্যালসের তিনজন খেলোয়াড়কে। একই দলে খেলেছেন রাহুল দ্রাবিড়ও; ছিলেন অধিনায়ক। তাই এই বছরই আইপিএলকে বিদায় জানানো এই ক্রিকেটারের দায়টা একটু বেশিই বলা যায়। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমার মতে বয়স ভিত্তিক পর্যায় থেকেই ক্রিকেটারদের শিক্ষা ও তাদের সচেতন করে গড়ে তোলাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেটা অবশ্যই শুরু করা উচিত। আজকের তরুণরাই আমাদের ভবিষ্যত্। কিন্তু যা হবার সেটা এর মধ্যেই হয়ে গেছে। আমি জানি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটা নিজস্ব দুর্নীতি দমন বিভাগ আছে; তারা রঞ্জি ট্রফির দলগুলো নিয়েও কাজ করছে।’
সমস্যার ভয়াবহতা বুঝেই কি না দ্রুত এই ব্যাপারে আইন প্রণয়ন জরুরি বলে মনে করছেন দ্রাবিড়, ‘আমার মতে শুধু শিক্ষা দিয়ে কোন কাজ হবে না। সেই শিক্ষাটা যেন বাস্তব ক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা প্রয়োগ করে সেজন্য আইন প্রণয়ন করতে হবে আর কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার যেন শাস্তি হয় সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। অপরাধ করে পাড় পেয়ে গেলে এমনটা আবার হবে। তাই তাদের মনে ভয় সৃষ্টি করতে হবে।’ সাইক্লিংয়ে ড্রাগস নেয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সবাই জানে এই কাজটা ঠিক নয়; একই সাথে ব্যাপারটা যথেষ্ট ভীতিকরও বটে। এসব নিয়ে আমি খুব সামান্যই পড়েছি। তবে সবাই জানে এটা কোনভাবেই সঠিক হতে পারে না। আর সেসব সাইক্লিস্টরা ড্রাগ টেস্টার থেকে শুরু করে কতৃপক্ষ; কাউকেই তোয়াক্কা করছে না। যদি আইন থাকতো তাহলে এমনটা কখনওই হতো না। তাই দণ্ডবিধির কোন বিকল্প নেই।’
রাজস্থান রয়্যালসের গ্রেফতার হওয়া তিন খেলোয়াড় (শ্রীশান্থ, আঙ্কিত চাভান, অজিত চান্ডিলা) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাদের মামলা এখনও চলছে। তাই এখনই তারা দোষী এটা ধরে আমি কথা বলতে চাই না। আমি আনন্দিত যে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাজটা ঠিক মতো করেছে। আশা করি সব ভালভাবেই শেষ হবে।’
