জাতীয় ফুটবল দলে বিদেশি গোলকিপিং কোচ আগে ছিল না। ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনুভব করলেন গোলকিপাররা অনেক দুর্বল। অনেক টেকনিক্যাল বিষয় জানা নেই তাদের। গোলকিপারদের দুর্বলতা কাটাতে একজন বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। চাহিদার কথা জানালেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের কাছে। তিনিও চাওয়া পূরণ করলেন এবং গতকাল রবিবার ভোরে নেদারল্যান্ড থেকে ঢাকায় পৌঁছে যান গোলকিপিং কোচ করনে লুইস কীসকাল্ক। গোলকিপাররাও প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে জানালেন তাদের উপকৃত হওয়ার কথা।
দেখতে অনেকটাই বিখ্যাত ইটালীয়ান ফুটবল রেফারি পিয়েরলুইজি কলিনার মতোই। ক্লিন সেভ, মাথা চুলহীন, দীর্ঘকায় এবং সুঠাম দেহ তার। চোখগুলোয় অনেকটা কলিনার মতোই, ভয় জাগানিয়া। অনেকেই তাকে রেফার কলিনা মনে করতে পারেন। এ কারণে কীসকাল্কের নানা জায়গায় বিব্রত হতে হয়। কাল বিকালে অনুশীলনের পর সংবাদ মাধ্যমের সাথে কীসকাল্ক বললেন, অনেকেই আমাকে কলিনা বলে ডাকেন কিন্তু এটা আমার ভালো লাগে না। আমি এটা চাই না। আমি নিজের নামে পরিচিত হতে চাই।
৫৬ বছরের এই কোচ কাল ভোরে পৌঁছেই দুপুরে বিপ্লব, মামুন খান আর সোহেলকে নিয়ে মাঠে নেমে পড়লেন। বাফুফে ভবনের পাশে ফুটবল টার্ফে বল নিয়ে বিপ্লবদের দেখাচ্ছিলেন গোলপোষ্টের নিচে কিভাবে প্রতিপক্ষকে সামাল দিতে হবে। সংবাদ মাধ্যমও উপচে পড়ল আরেকজন ডাচ কোচের কাজ দেখার জন্য। হেড কোচ ক্রুইফ, সহকারি কোচ রেনে কেস্তার, ফিটনেস কোচ ইয়াম আলীর সাথে নতুন সংযোজন ঘটল গোলকিপিং কোচ করনেলুইস কীসকাল্কের। বলতে গেলে ডাচ কোচিং স্টাফ দিয়ে জাতীয় ফুটবল দলটাকে সর্বোতভাবে প্রস্তুতির সুযোগ করে দেয়া হলো।
ফুটবল মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করতে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন সব রকম চেষ্টাই করছেন, বললেন, ‘আমি তো খেলে দিতে পারব না। গোলকিপিং কোচ চেয়েছে আমি এক মিনিটের মধ্যে রাজি হয়েছি। এখন খেলোয়াড়দের বিষয়। তারা কিভাবে কোচদের কাছে থেকে শিখে নিয়ে দায়িত্ব মাঠে প্রয়োগ করতে পারে।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ সেপ্টেম্বর। এখন সেটা একদিন এগিয়ে আনায় ৩১ আগস্ট মাঠে গড়াবে। হাতে খুব বেশি সময় নেই। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে গোলকিপারদের যতটুকু উন্নত করা যায় সেটাই এখন করছেন ডাচ গোলকিপিং কোচ। তিনি বললেন, ‘কিছু সমস্যা দূর করা যায়, এমন বিষয় নিয়ে কাজ করছি। মাত্রই দায়িত্ব পেলাম।’ ইনজুরির কারণে পেশাদার ফুটবলে তার ক্যারিয়ার ছিল মাত্র দেড় বছরের। কিন্তু কোচিং ক্যারিয়ার দীর্ঘ। গোলকিপার হিসাবে শুরু করা এই ডাচ কোচ রক্ষণভাগেও খেলেছেন। জাতীয় দলে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্লাবে কাজ করেছেন তিনি। জাতীয় দলের তিন গোলকিপার বিপ্লব, সোহেল, মামুন খানদের নিয়ে ঘন্টাখানেক তালিম দিলেন ডাচ কোচ। আর তাতে ভালোই মনে হচ্ছে দেশের অভিজ্ঞ গোলকিপার বিপ্লবের। অনুশীলন শেষে বিপ্লব বলছিলেন, ‘এখন যেগুলো শেখানো হয়েছে আমরা কখনোই শিখিনি। বলতে লজ্জা নেই, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক কিছুই শেখা হয়নি আমাদের। কিভাবে ডিফেন্সের সাথে তাল মিলিয়ে খেলতে হয় সেটা দেখাচ্ছিলেন কোচ। আমি আশা করি আমরা দিনে দিনে উন্নতি করব।’
