প্রথম ব্রিটিশ অ্যাথলেট হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ১০ হাজার মিটারের দৌড়ে স্বর্ণ জিতলেন অলিম্পিকেও এই ইভেন্টের স্বর্ণজয়ী মো ফারাহ। বিরল এই কৃতিত্ব গড়ার পাশাপাশি ফারাহ এদিন তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ইথিওপিয়ার ইব্রাহিম জিলিয়ানকে পরাস্ত করে টুর্নামেন্টের গত আসরের হারেরও দারুণ শোধ নিলেন। অলিম্পিকের পর মস্কোতে চলমান বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সেও ১০ হাজার মিটারে স্বর্ণ জিতে দূরপাল্লার দৌড়ে সর্বকালের সেরাদের কাতারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন ২৭ মিনিট ২১.৭১ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করা ফারাহ। তার সাফল্যের দিনেই এগিয়ে চলেছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সবচাইতে বড় তারকা জ্যামাইকান উসেইন বোল্ট।
মো ফারাহ লন্ডন অলিম্পিকে ৫০০০ এবং ১০০০০ মিটারে স্বর্ণ জিতেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছিলেন ব্রিটেনের সর্বকালের সেরা অ্যাথলেট হিসেবে। তাই কেনেনিসা বেকেলে কিংবা হাইলে জেব্রেসেলাসির কাতারে নিজেকে তুলে আনতে পারবেন কিনা প্রশ্ন ছিল সেটা নিয়ে। আর সে যাত্রায় ফারাহ’র সামনে সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন জিলিয়ান।
দক্ষিণ কোরিয়ার দেগুতে গত বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ফারাহকে হারিয়ে অনেকটা অঘটনেরই জন্ম দেয়া এই ইথিওপিয়ানকে মানা হচ্ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। স্প্রিন্টারের গতিতে দৌড় শেষ করার পর ফারাহ’র উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল প্রতিশোধের ব্যাপারটা ভালভাবেই ছিল তার মনে। পরে অবশ্য সরাসরিই স্বীকার করেন, দুই বছর আগের সেই স্মৃতি এক মুহূর্তের জন্যও মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি তিনি। পরাজয়ের সেই তিক্ত স্মৃতিই এদিন তাকে আরো জোরে দৌড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি। লন্ডন অলিম্পিকে নেয়া নিজের সময় থেকে নয় সেকেন্ড আগে দৌড় শেষ করা ফারাহ নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমার মনে আছে শেষবার ঠিক এই ব্যাপারটাই ঘটেছিল। তবে এবার আমি জানতাম সে (জিলিয়ান) কি করতে সক্ষম। আমি মনেপ্রাণে চাচ্ছিলাম ঐ ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। খুব সূক্ষ্ম সমাপ্তিগুলোর বিষয়টিই আসলে খেলার জগত্টাকে এমন মাহাত্ম্য দান করেছে।’
দৌড়ের প্রথমার্ধে কিছুটা ধীরগতিতে এগোতে থাকা ফারাহ নিজের অবস্থান বোঝার জন্য বারবারই চোখ রাখছিলেন স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনের দিকে। ষষ্ঠ ল্যাপে সর্বশেষ স্থান থেকে দ্রুতই তিন নম্বর অবস্থানে চলে আসেন তিনি। এরপর একই দ্রুততায় পৌঁছে যান সবার সামনে। এরপর খানিকক্ষণের জন্য প্রথমস্থানটি হারাতে হলেও দ্রুতই আবার সেখানে ফেরেন তিনি। আর সিপ্রন্টারের গতিতে শেষ ৪০০ মিটার দৌড়ে জিলিয়ানের আগেই দৌড় শেষ করেন। জিলিয়ান সময় নেন ২৭.২২.২৩ মিনিট। আর ব্রোঞ্জ পাওয়া পল তানুই সময় নেন ২৭.২২.৪১ সেকেন্ড।
এগিয়ে চলেছেন বোল্ট
দৌড়ের শুরু হতে না হতেই যখন আবার দৌড় শুরু করার সংকেত পাওয়া গেল তখন মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা থমকে গিয়েছিলেন মুহূর্তের জন্য। আবারও কি ফলস স্টার্ট করলেন উসাইন বোল্ট! না, তেমন কিছু ঘটেনি। শুরুর এই নাটকীয়তা বাদ দিলে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত জয়ই নিয়েই ১০০ মিটার স্প্রিন্টের হিটের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেছেন বোল্ট। টানা দুটি অলিম্পিকে এই ইভেন্টের স্বর্ণ জয়ী এই জ্যামাইকান দৌড় শেষ করতে সময় নিয়েছেন ১০.০৭ সেকেন্ড।
দর্শকদের উত্তেজনার আঁচ তার গায়েও লেগেছিল কিনা জানতে চাইলে দৌড় শেষে নেতিবাচক উত্তরই আসে বোল্টের কাছ থেকে। ফলস স্টার্ট করেননি এই বিষয়ে পুরোপুরিই নিশ্চিত ছিলেন জানিয়ে বোল্ট বিবিসিকে বলেন, ‘না না। আমি দেখেছি সে (কেমার হাইমেন) নড়ছিল। আমি তাকে নড়তে দেখছিলাম তাই আমি নিশ্চিত ছিলাম ফলস স্টার্ট আমি নয় সেই করেছে।’
