বিশ্ব শিরোপা ফিরে পেলেও হতাশ বোল্ট

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৪
উসাইন বোল্ট গত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ফলস স্টার্ট করে বাদ পড়ার হতাশাকে ঝেড়ে ফেলে আবারো বিশ্ব সেরার মুকুট পরলেন। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে মৌসুম সেরা ৯.৭৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে গত রবিবার ১০০ মিটার স্প্রিন্টের স্বর্ণ জেতেন তিনি। সেমিফাইনালের পর পায়ে সমস্যার পরও পাওয়া এ জয়ে সন্তুষ্ট বোল্ট, কিন্তু নতুন রেকর্ড গড়তে না পেরে হতাশ হন এই জ্যামাইকান। বোল্ট বার্লিনে চার বছর আগে এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেই ৯.৫৮ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে রেকর্ডবুকে আরেকবার পরিবর্তন এনেছিলেন। তিনি নিজেও কিনা এখন পর্যন্ত বিশ্বরেকর্ডটি আর ভাঙ্গতে পারেননি। আর দুইবছর আগে টুর্নামেন্টটির পরবর্তী আসরে এর ঠিক উল্টো চিত্রটাই সবাই দেখেছিল। ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে ট্রাক ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বোল্ট; এই দৃশ্য হয়তো এখনো চোখে ভাসে তার ভক্তদের। তাই শুধু শিরোপা পুনরুদ্ধার নয়, এবারের আসরটি বোল্টের জন্য ছিল হতাশা ভোলার মিশনও। মস্কোতে আসার আগেই জানিয়েছিলেন, মাদক বিতর্কে আরেকবার কলঙ্কিত হওয়া অ্যাথলেটিক্স বিশ্বের উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দারুণ কিছু করার চেষ্টাই করবেন তিনি। তাই নতুন কোন বিশ্বরেকর্ডের স্বপ্নই হয়তো দেখতে শুরু করেছিলেন বোল্ট ভক্তরা। রেকর্ড গড়তে না পেরে অনেকটা হতাশ বোল্ট নিজেও। আর রেকর্ড গড়তে না পারার কারণ হিসেবে তিনি দায়ী করলেন পায়ের ব্যথাকে। জ্যামাইকার অনলাইন সংবাদমাধ্যম দি গ্লেনারকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে সেটা লুকানোরও কোন চেষ্টা করলেন না টানা দুইটি অলিম্পিকে ১০০ এবং ২০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জয়ী এই তারকা, ‘বিশ্বরেকর্ড? আমি এ বিষয়ে ভাবছিলাম। এখানে এসে নিজের সেরাটা ঢেলে দেয়া আর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ দ্রুতগতিতে দৌড়ানোর চেষ্টাই ছিল আমার। তবে সেমিফাইনালের পর আমি পায়ে ব্যথা অনুভব করতে শুরু করি। তবে আমি মনে করি বড় কিছুর পেছনে ছোটার চাইতে নিশ্চিত কোন কিছু পাবার চেষ্টা করা ভালো। তাই আমার চেষ্টা ছিল পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন এবং জেতা। আমি সেটাই করেছি।’ নিজের পারফরম্যান্সে সন্তোষের কথা জানিয়ে ‘বজ্রবিদ্যুত্’ বলেন, ‘সর্বোপরি আমার পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট। ভালো একটা দৌড়ই ছিল এটা।’ বোল্টের পেছনে থেকে ৯.৮৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন আমেরিকার জাস্টিন গ্যাটলিন। ৯.৯৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন আরেক আমেরিকান নেস্তা কার্টার।