শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল রাতে আইসিসির যে দলটা পা রেখেছে, তাকে শুধু উচ্চ ক্ষমতাধর প্রতিনিধি দল বললেও কম বলা হয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফিক্সিং কেলেঙ্কারি বিষয়ে তৈরি করা আকসুর রিপোর্ট সঙ্গে নিয়ে গতকাল ঢাকায় আসা আইসিসি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খোদ আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন। সঙ্গে আইসিসির আরো দুই পদস্থ কর্মকর্তা এবং দু’ জন তদন্ত কর্মকর্তাও এসেছেন ঢাকায়। না জানলে বিশ্বাস করা কঠিন যে, শুধু আকসু রিপোর্ট নিয়ে এই দল কোনো দেশে সফরে যেতে পারে!
অবশ্য এই দলের আসার উদ্দেশ্য, তারা কী করতে চান, তাদের আবিষ্কার কী; এসব কোনো তথ্যই গতকাল জানা গেল না। একেবারে বৈশ্বিক গোপন তথ্য লুকানোর মতো করে বিমানবন্দরে মুখে কুলুপ এটে রাখলেন আইসিসি কর্মকর্তারা। শুধু তাদের পৌঁছানোর পর পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আইসিসি থেকেই জানানো হল, আজ দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন করে ডেভ রিচার্ডসন ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সব কিছু জানিয়ে দেবেন।
গতকাল সারাদিনই আলোচনায় ছিল আইসিসির এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ঢাকা সফরের বিষয়টা। এ নিয়ে ক্রিকেট মহলে আলোচনা ছিল, আলোচনা ছিল যাদের নাম এ পর্যন্ত এই কাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়েছে তাদের মধ্যেও। এর মধ্যে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে আকসু যোগাযোগ করেছে বলেও জানা গেছে। আরেকটি অসমর্থিত সূত্রের দাবি, এই সফরে বাংলাদেশের কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রসঙ্গেও সিদ্ধান্তমূলক তথ্য জানাবে আইসিসি। যে কারণে এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আসা।
উল্লেখ করা যেতে পারে, বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের দুইটি ম্যাচ নিয়ে খেলা শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় এই আকসু তদন্ত। মূলত বিপিএলের প্রতিটি ম্যাচে নজরদারি করার জন্য বিসিবিই আকসুকে অর্থের বিনিময়ে দায়িত্ব দিয়েছিল। টুর্নামেন্ট শেষে আকসুর তরফ থেকে বিসিবিকে জানানো হয় টুর্নামেন্টের কমপক্ষে দু’টি ম্যাচ এবং কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে। ম্যাচ দু’টি হল ২ ফেব্রুয়ারির ঢাকা-বরিশাল এবং ১২ ফেব্রুয়ারির ঢাকা-চিটাগাং ম্যাচ। আকসু এ পর্যায়ে অধিকতর তদন্তের জন্য বিসিবির কাছে অনুমতি চায়। বিসিবি সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদন দেয়ার পর দেশে-বিদেশে শতাধিক খেলোয়াড়, আম্পায়ার, কর্মকর্তা, দল মালিক, খেলোয়াড়দের এজেন্টের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আকসু প্রতিনিধিরা।
এই তদন্তের এক পর্যায়ে সংবাদ মাধ্যমে খবর আসে যে, জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল, মোশাররফ হোসেন রুবেল ও মাহবুবুল আল রবিন এই ফিক্সিং কাণ্ডে জড়িত। এছাড়া সাবেক কয়েকজন জাতীয় ক্রিকেটারের নামও আসে এই প্রক্রিয়ায়। এর মধ্যে আশরাফুল নিজে সংবাদ মাধ্যমের কাছে সব দোষ স্বীকার করে জাতির উদ্দেশ্যে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতিও দেন।
সেই থেকে তদন্তশেষের রিপোর্ট পাওয়ার জন্য চলছে অপেক্ষা। সর্বশেষ লন্ডনে আইসিসির সভায় রিপোর্ট পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেখান থেকে ফিরে বিসিবি সভাপতি জানান, আগস্টের প্রথম দিকে এই অপেক্ষার পালা শেষ হতে পারে।
অবশেষে আজ হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে অপেক্ষার পালা। এবার উত্তেজনা ও শঙ্কা—কে কতোটুকু অপরাধী বলে বের হয়ে আসে!
