বাংলাদেশের আগ্রহে সাড়া দিয়েছে মালয়েশিয়া। ফলে নেপালে এ মাসেই শুরু হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে মালয়েশিয়ার অলিম্পিক ফুটবল দলের সাথে অনুশীলন ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ফুটবল দল। মূলত পাকিস্তানের সফরটি বাতিল হওয়ার কারণে আরো একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার জন্য দ্রুত মালয়েশিয়ার সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফের আবেদনে তাত্ক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে দেশটি জানায় মালয়েশিয়ার অলিম্পিক ফুটবল দলের সাথে অনুশীলন ম্যাচ খেলতে পারে বাংলাদেশ দল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কুয়ালালামপুরে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৩ আগস্ট।
মালয়েশিয়া প্রাথমিকভাবে মৌখিক সম্মতি দিলেও আজকালের মধ্যে সবকিছু চূড়ান্ত করে বাফুফেকে জানিয়ে দেবে। বাফুফেও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০ আগস্ট ঢাকা ছাড়বে লোডভিক ডি ক্রুইফের দল। ২৩ আগস্ট ম্যাচ খেলে পরদিন কুয়ালালামপুর থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে চলে যাবে বাংলাদেশ ফুটবল দল।
এদিকে জাতীয় ফুটবল দল গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাফুফে একাদশের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। এতে জাতীয় দল ২-১ গোলে হারিয়েছে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া বাফুফে একাদশকে। জিতলেও নিবিড় অনুশীলনের মধ্যে থাকা জাতীয় দলের খেলায় ক্ষুব্ধ কোচ ক্রুইফ এবং তার কোচিং স্টাফরা। ধারণা করা হয়েছিল ম্যাচের পর কথা বলবেন এদিনই ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা ক্রুইফ। কিন্তু ক্রুইফ কিংবা তার সহকারি রেনে কেস্তারও কথা বলেননি। খোঁজা হচ্ছিল জাতীয় দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলামকে। তিনিও ম্যাচ শেষে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেলেন।
গতকাল সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন ক্রুইফ। দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন রেনেকে। তিনিই দলটাকে পরিচর্যা করবেন। কিন্তু কী পরিচর্যা করা হয়েছে তা বুঝতে পারলেন ক্রুইফ। এমিলি, ওয়ালী ফয়সালদের খেলা দেখে ক্ষুব্ধ ক্রুইফ। প্রস্তুতি ম্যাচে হার জিতের চাইতে বড় ব্যাপার হলো দলটা কতখানি ভালো খেলছে তা দেখা। কারণ সাফে বাংলাদেশের গ্রুপে প্রতিপক্ষ দলগুলো খুবই শক্তিশালি। নেপাল, ভারত এবং পাকিস্তানকে টপকে সেমিফাইনালে যাওয়া একরকম দুরহই। সেজন্য বাংলাদেশ দলকে নিজেদের সামর্থ্যের চাইতেও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।
কিন্তু কাল বিকালে বাফুফে একাদশের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথমার্ধ দেখে মেজাজটা ঠিক রাখতে পারেননি ক্রুইফ। প্রেসবক্সে সাংবাদিকদের পাশেই খেলা দেখছিলেন তিনি এবং নতুন আসা গোলকিপার কোচ কীসকক্ল। বিরতির বাঁশি বাজার সাথে সাথে দৌড়ে মাঠে নেমে গেলেন ক্রুইফ। প্রেস বক্স থেকে দেখা গেল টাচ লাইন পার হয়ে মাঠের ভেতরে ঢুকে খেলোয়াড়দের ডেকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন এই কোচ। ওয়ালী ফয়সাল, নাসির, মিশুরা মাথা নিচু করে তার কথা শুনছিলেন। কোচের রাগের কারণে কিংবা খেলোয়াড়দের সম্বিত ফেরার কারণেই হোক, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জাতীয় দল চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করে। খেলাটিতে সাত মিনিটে পেনাল্টি থেকে জাহিদ গোল করে জাতীয় দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেয়ার পর ২৪ মিনিটে বাফুফে একাদশের হয়ে সমতা আনেন (১-১) সজিব । ৬৪ মিনিটে ওয়ালী ফয়সালও পেনাল্টি থেকে গোল করলে ম্যাচ জিতে মামুনুল ইসলামদের দল। জাহিদের খেলা মন ভরাতে পারেনি কোচের। প্রেস বক্স থেকে কোচের ইশারায় জাহিদকে তুলে নেয়া হয়। আক্রমণভাগে এমিলি, তকলিস, সোহেল রানা, ওয়াহেদরা ভালো খেলেননি। রক্ষণভাগের মিশু, নাসির, লিংকনদের অগোছালো খেলা দেখে হতাশ ক্রুইফ।
পরিবার ঢাকায় আনবেন বলে নেদারল্যান্ড গিয়েছিলেন ক্রুইফ। দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন স্বদেশি রেনেকে। পরিবার ছাড়া কাল সকালে ঢাকায় ফেরা কোচ বিকালে দেখলেন তার ছেলেদের হতশ্রী ফুটবল। বুঝতে পারছেন নিজের দায়িত্ব অন্যদের দিয়ে আদায় হয় না।
