স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ঝটকার ফাস্ট বোলিংয়ে ইংল্যান্ড চতুর্থ টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৭৪ রানে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো অ্যাশেজ জিতলো। ব্রড গত সোমবার রাতে ডারহ্যামের চেষ্টার লি স্ট্রিটে ৪৫ বল ছুঁড়ে ২০ রানে ছয় উইকেট নিয়ে দলকে জিততে সাহায্য করলেও স্বাগতিক কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার এ বাবদ অ্যালিস্টার কুকের অধিনায়কত্বকেও কৃতিত্ব দিচ্ছেন। অপরদিকে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটসম্যানদের সমালোচনা করে তাদের ক্যারিয়ার সংশয়ের মধ্যে পড়তে পারে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির কোচ ড্যারেন লেহমান।
অস্ট্রেলিয়া টেস্টটির চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য ২৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুই উইকেটে ১৬৮ রান তোলার পর যখন ইংল্যান্ডকে হারানোর স্বপ্ন দেখছিল সেসময়েই জ্বলে ওঠেন ব্রড। চা বিরতির পর টিম ব্রেসনান প্রথমে ৭১ রানে থাকা ডেভিড ওয়ার্নারকে উপড়ে নেন। এরপরই ব্রডের নৈপুণ্যের কাছে ২২৪ রানেই থেমে যায় সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে জয়ের আশার মধ্যে থেকেও শেষ আট অজি ব্যাটসম্যান কেবল ৫৬ রানের সঞ্চয়ে নিজেদের বিসর্জন দেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট নেন ব্রড। দিনের শেষ পালায় কুকের দলের এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এবারের অ্যাশেজটিও জিতে নেয় ইংল্যান্ড।
অধিনায়ক কুকের কৌশলের সমালোচনা করে অস্ট্রেলিয় লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন এটিকে নেতিবাচক বলে অভিহিত করেন। জবাবে ২৮ বছর বয়সী কুকের নেতৃত্বকে ‘দুর্দান্ত’ বলে প্রশংসা করেছেন ইংল্যান্ড কোচ। অ্যান্ডি বলেন,‘কুক দলটিকে দুর্দান্তভাবে নেতৃত্ব দিয়েছে। সে শক্তিমান নেতা। সে সাজঘরে ও মাঠে দাপুটে নেতৃত্ব দেন এবং এই সিরিজে সত্যি বেশ কিছু ভাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার সে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেয় যা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।’
কুক অবশ্য এই সিরিজে ব্যাট হাতে দুর্দশার মধ্যে আছেন। কেননা তার ব্যাটিং গড় মাত্র ২৭। এরকম পরিস্থিতির মধ্যেই ইংল্যান্ড তার নেতৃত্বে ২১ আগস্ট দ্য ওভালে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের শেষ টেস্টটিতে খেলতে নামবে।
অথচ রায়ান হ্যারিসের টেস্ট সেরা বোলিংয়ের (৭/১১৭) পর দুই সতীর্থ ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্রিস রজার্সের ১০৯ রানের ভাগিদারিতে অস্ট্রেলিয়া এই টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছিল। ২০০৫ সালের ওভাল টেস্টের পর এটাই ছিল অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়দের ওপেনিং জুটিতে প্রথম সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ। এরকম একটা সূচনার কারণে শেষ উইকেটটি পড়ার দুই ঘন্টা আগেও অস্ট্রেলিয়া স্বাগতিকদের দেয়া ২৯৯ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়ে ওভালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিতে পারবে বলে মনে হয়েছিল।
টেস্টে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৭০৮ উইকেট শিকার করা ওয়ার্ন নিজ দেশের পরাজয়ের সময় টেলিভিশনে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে বলেন,‘এভাবে অস্ট্রেলিয়া হারতে পারে, সত্যিই ভাবতে পারিনি।’ অস্ট্রেলিয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কও স্বীকার করেন খারাপ ব্যাটিংয়ের জন্য হেরেছে তার দল। তিনি এ জন্য বিশেষ করে মিডল অর্ডারকে দায়ি করেন।
ক্ষুব্ধ অজি কোচ লেহম্যানের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এমন হারের কারণে ব্যাটসম্যানদের ক্যারিয়ার সংশয়ের মধ্যে আছে কিনা। জবাবে তিনি বলেন,‘হ্যাঁ, এর মধ্যে কোন ভুল নেই। মরদদের শিখতে হবে। আর তারা যদি তা না করে, আমরা এমনদের খুঁজে নেবো যারা পারবে।’
পুরো সিরিজ জুড়েই শেন ওয়াটসন, উসমান খাজা, স্টিভেন স্মিথ, এড কাওয়ান ও ফিল হিউজরা রান পেতে দুর্দশায় ছিলেন এবং লেহম্যান সম্ভবত তাদের ব্যাপারে ধৈর্য হারিয়েছেন। তাই তিনি বলেন,‘অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে হলে, কাউকে দলের সবার জন্য ও অস্ট্রেলিয়ার জনগণ এবং গণমাধ্যমের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা নির্দিষ্ট মানে নৈপুণ্য দেখাতে হবে।’
স ং ক্ষি প্ত স্কো র
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস-২৩৮
(আলিস্টার কুক ৫১, জনাথন ট্রট ৪৯; নাথান লিয়ন ৪/৪২, রায়ান হ্যারিস ২/৭০, জ্যাকসন বার্ড ২/৫৮)।
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস - ২৭০ (ক্রিস রজার্স ১১০, শেন ওয়াটসন ৬৮; ক্রিস ব্রড ৫/৭১, গ্রায়েম সোয়ান ২/৪৮, জেমস অ্যান্ডারসন ২/৬৫)
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস- ৩৩০ (ইয়ান বেল ১১৩, ব্রেসনান ৪৫, কেভিন পিটারসেন ৪৪; হ্যারিস ৭/১১৭, লিয়ন ৩/৫৫)
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস-২২৪ (ওয়ার্নার ৭১, রজার্স ৪৯, ক্লার্ক ২১; ব্রড ৬/৫০ )
ফল: ইংল্যান্ড ৭৪ রানে জয়ী
