ট্রা ই বু না ল

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫২
আইসিসি যেহেতু সবকিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার বিসিবি, তথা ট্রাইবুনালের ওপর ছেড়ে দিয়েছে; তাই এখন আগ্রহের কেন্দ্রে আছে বিসিবির গঠন করতে যাওয়া বিশেষ এই ট্রাইবুনাল। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদ সম্মেলনেই জানালেন, যতো দ্রুত সম্ভব ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। ট্রাইবুনাল কিভাবে গঠন করতে হবে সে ব্যাপারে পরিষ্কারভাবেই আসলে প্রক্রিয়াটা বলে দেয়া আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি বিরোধী আইনে (এন্টি করাপশন কোড)। এ ক্ষেত্রে প্রথমত ক্রিকেট বোর্ডকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিসিপ্লিনারি প্যানেল গঠন করতে হবে। প্রথমেই এই প্যানেলের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে। তার নেতৃত্বে কমপক্ষে ১০ সদস্যের প্যানেল গঠিত হবে; এই ১০ জন সদস্যকে নিয়োগ দেবেন চেয়ারম্যান নিজেই। এই প্যানেলে আরও তিনজন সুপ্রিম কোর্টের বা জেলা আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি থাকবেন। তিনজন থাকবেন সুশীল সমাজের সর্বজনগ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি। বাকি চারজন সদস্য আসবেন ক্রিকেট জগত্ থেকে। এই চার সদস্য হতে পারেন সাবেক ক্রিকেটার অথবা ক্রিকেটজ্ঞান সম্পন্ন যে কেউ। এবার এই ডিসিপ্লিনারি প্যানেল গঠন করবেন তিন সদস্যের এক ট্রাইবুনাল; এই ট্রাইবুনালে প্রথমেই ডিসিপ্লিনারি প্যানেলের চেয়ারম্যান নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। ট্রাইবুনালের সদস্য তিনজন হবেন এমন—একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি থাকবেন চেয়ারম্যান এবং একজন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও একজন নাগরিক প্রতিনিধি থাকবেন সদস্য। এই ট্রাইবুনাল প্রতিটি অভিযুক্তকে নোটিশ দেবেন তার বক্তব্য জানানোর জন্য। প্রথমেই ট্রাইবুনাল তদন্তকারীদের বক্তব্য শুনবেন, এরপর আইসিসি বা বিসিবি’র কিছু বলার থাকলে শুনবেন এবং অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে। কোনো অভিযুক্ত আত্মপক্ষ সমর্থন করলে তদন্তকারীদের সামনে সুযোগ থাকবে তার জবাব দেয়ার। এই পুরো ব্যাপারটাতে সব পক্ষের সামনে প্রতিনিধি বা আইনজীবী নিয়োগের অধিকার থাকছে। এরপর ট্রাইবুনাল যে লিখিত রায় দেবেন, তা আইসিসিকে এবং সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তকে জানানো হবে। দোষী যে দেশেরই হোক না কেন, আইসিসি’র সমঝোতা চুক্তির কারণে সব জায়গায় এই রায় সমানভাবে কার্যকর করে। এই রায়ের বিপক্ষে কোনো সাজাপ্রাপ্ত চাইলে ট্রাইবুনালেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে পারেন। তাতেও সন্তুষ্ট না হলে চূড়ান্ত রায় প্রদানের ২১ দিনের মধ্যে ক্রীড়া ক্ষেত্রের সর্বোচ্চ আদালত ‘কোর্ট অব আরবিট্রেশন অব স্পোর্টস’-এ আপলি করতে পারবেন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি।