বঙ্গবন্ধু হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে কমিশন গঠনের দাবি

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৫
রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে একটি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু মরেননি। জাতির মধ্যে অমর হয়ে থাকবেন। তাঁকে দলীয় রাজনীতির কারাগার থেকে মুক্ত রাখতে হবে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৮তম শাহাদত্ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বিএফইউজে’র সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সভাপতির তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক, ভাষা সৈনিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ.আ.ম.স আরেফিন সিদ্দিক। ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান মিলন, বিএফইউজে’র সাবেক মহাসচিব শাহজাহান মিয়া, আলতাফ মাহমুদ, সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আহসান, কবি আসাদ চৌধুরী, বিএফইউজে’র মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, বাসস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহেদ চৌধুরী প্রমুখ। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘১৫ আগস্টের হত্যাকারীরা আবারো ষড়যন্ত্র করছে। ওরা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। মিথ্যাচার, গুজব, নাশকতা, জঙ্গিবাদ ও অপপ্রচার ছড়ানোই হচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধীদের মূল কৌশল। তাই বঙ্গবন্ধুকে প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত্ নেই। তাঁকে দলীয় রাজনীতির কারাগার থেকে মুক্ত করতে হবে। ভুল-ভ্রান্তি সংশোধন করে স্বাধীনতার সপক্ষ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে মাঝামাঝি থাকার সুযোগ নেই। যারা সমদূরত্বের নামে দূরে দূরে থাকছেন তারা আত্মহত্যা করছেন। আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে কার পক্ষে যাবেন। হয় খালেদা জিয়া বা তেঁতুল তত্ত্ব হুজুরের পক্ষে যেতে হবে, নয়তো শেখ হাসিনার পক্ষে আসতে হবে। প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী যখন বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে নিজের ছবি লাগান তখন তা বঙ্গবন্ধুর জন্য চরম অপমান। আগেও বলেছি, এখনো বলছি, বঙ্গবন্ধুকে দলীয় রাজনীতির কারাগার থেকে মুক্তি দিন।’ তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠা করতে আওয়ামী লীগ বার বার ব্যর্থ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণায় আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’ প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা বলেন, ‘আমার ৬২ বছরের জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা না করা। সমালোচনা মানে বিরোধিতা নয়। এজন্যই এ সরকারের সমালোচনা করি। যতদিন বেঁচে আছি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বেঁচে থাকবো।’ তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্টের হত্যাকারীদের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য আমরা কেন বেসরকারিভাবে হলেও একটি কমিশন গঠন করছি না?’