মুক্তিযোদ্ধা রাজ্জাকের চোখে অঝর ধারা

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৬
কাঁদছিলেন অঝোর ধারায়। একদম ছোটদের মতো। রাজধানীর কাওরানবাজারের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে এই বিত্তহীন অসহায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ কাঁদছিলেন তার পাশেই সারি সারি দামি ব্রান্ডের গাড়ি। চোখ মুছতে মুছতে হাতের একটি কাগজ দেখিয়ে বললেন, ‘দেশ স্বাধীন করে একটি সার্টিফিকেট পেয়েছি। কিন্তু আমার দরকার একটি কাজের। এই বয়সে কে দেবে আমাকে কাজ? মুক্তিযোদ্ধা হয়ে কারো কাছে হাত পাততেও কষ্ট হয়। অথচ পয়সার অভাবে মেয়ের বিয়ে দিতে পারি না।’ এই অসহায় মুক্তিযোদ্ধার নাম মো. আবদুল রাজ্জাক। বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঘরনগর গ্রামে। বয়সের ভারে ইতিমধ্যে তার শরীরে বাসা বেঁধেছে অনেক রোগ। সামর্থ্য নেই তার চিকিত্সার। এসব নিয়ে তার চিন্তাও নেই। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভাতা পাই, কিন্তু তাই দিয়ে কী জীবন চলে?’ হঠাত্ প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে তিনি বলেন, ’৭০ সালে আমি রিকশা চালাতাম। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন মিটিংয়ে কবিতার পোস্টার, ক্যালেন্ডার ইত্যাদি বিক্রি করতাম। এভাবে পোস্টার বিক্রি করতে করতেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে চলে যাই। আমার যুদ্ধজীবনে একটি বড় অপারেশন হলো সুয়াগাজি ও চৌআরার মাঝখানে ফুলতলী প্রাইমারি স্কুলের পাশের একটি অপারেশন। অপারেশনে আমার বাম পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি লাগে। আগরতলা জিবি হাসপাতালে ছিলাম ১১ দিন। পরে শুনি সেই অপারেশনে ৭ জন পাক আর্মি মারা যায়। যুদ্ধের পর চট্টগ্রামের কালুরঘাটে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে কর্মজীবন শুরু করি। কিন্তু তাও স্থায়ী হয়নি। যুদ্ধের আগে যে মালিকের রিকশা চালাতাম যুদ্ধের পর তিনি রিকশার জন্য আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেই মামলায় আমি ১ বছর জেলে ছিলাম। বর্তমানে আমি ৪ ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুবই কষ্টে জীবনযাপন করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি ৫০ বারের বেশি ঢাকায় এসেছি। কিন্তু একবারও দেখা করতে পারিনি। একবার যদি প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে পারতাম! তিনি আমার জন্য কিছু না করুক, অন্তত মনের কষ্টের কথাগুলো তো তাকে বলতে পারতাম।