জাতীয় দলের কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ গত মঙ্গলবার নেদারল্যান্ড থেকে ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় এসে খেলোয়াড়দের পারফর্মেন্স দেখে অসন্তুষ্টির পর সংবাদ মাধ্যমকেও এড়িয়ে গিয়েছিলেন। ফুটবলারদের পারফরম্যান্স ভালো না হওয়ায় ক্রুইফকেও সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। বলা হচ্ছে বিরামহীন অনুশীলনে ফুটবলাররা ক্লান্ত। সেজন্য আজ থেকে তাদের যৌক্তিক বিশ্রামেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ক্রুইফ আবার তার সমালোচনাকারীদের প্রতি ক্ষুব্ধ। কারণ ডাচ এই কোচ মনে করছেন সমালোচকরা তাদের কাজটা বুঝতে পারছেন না এবং এ জন্য তিনি হতাশ। যদিও সাফ বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য সবচেয়ে মর্যাদাকর আসর বলে এতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ও ভাল প্রশিক্ষণের স্বার্থে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কোচের সব চাহিদা পূরণ করেছে।
তারপরও উন্নতির গ্রাফটা দৃশ্যমান হচ্ছে না। সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বাফুফে একাদশের বিরুদ্ধে বাজে খেলেছে খেলোয়াড়রা। ক্রুইফ কাল এ প্রসঙ্গে জানান ম্যাচটি কঠিন ছিল। খেলা দেখে হতাশ হয়েছিলেন তিনি। খেলোয়াড়রা কেবল ৫০ ভাগ খেলতে পেরেছিল। কোচ বলেন, ‘ম্যাচটা ভুলে ভরা ছিল। কোথা থেকে শুধরাবো, সেটা যেন বুঝে উঠতে পারছিলাম না।’
খারাপ খেলার কারণ খেলোয়াড়রা নাকি অতিরিক্ত প্রশিক্ষণে ক্লান্ত যা বুঝতে পারছিলেন না কোচ। খেলোয়াড়রা গতকাল সেটি কোচকে জানানোর পর কোচও সংবাদ মাধ্যমের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাই কোচ জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের আজ বিশ্রাম দেয়া হবে। তবে থিওরিটিক্যাল ক্লাস চলবে।
কয়েকদিনের মধ্যেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য নেপালে যাবে বাংলাদেশ। ৩১ আগস্ট শুরু হবে আসরটি। অথচ এখনই খেলোয়াড়রা কেন ক্লান্ত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোচ বলছেন, ‘আমি ঢাকায় ফিরে (চ্যালেঞ্জ কাপের পর) দায়িত্ব নিয়ে দেখি খেলোয়াড়দের ফিটনেস ভালো ছিল না। ভালো ম্যাচ খেলতে হলে শক্ত পরিশ্রম করতে হবে।’
কোচের কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু এদেশের খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্ষমতাটাও তার জানা থাকা প্রয়োজন। ফুটবলে দুই বেলা অনুশীলন করানোর রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু ক্রুইফ যেভাবে দুই বেলা অনুশীলন করাচ্ছেন তাতে বিশ্রামের কোনো সুযোগ নেই। সকাল ১০টা থেকে অনুশীলন শুরু করে ১২টায় তা শেষ হয়ে আবার থিওরিটিক্যাল ক্লাস, এমনকি দুপুরে খাওয়ার পরও বিশ্রামের সুযোগ নেই। বেলা দুইটায় আবার মাঠে নামতে হচ্ছে তাদের। এ কারণে প্রথম ধাপের অনুশীলনের পর ক্লান্ত শরীর বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছে না। এমিলি, মিঠুন, ওয়ালী ফয়সাল, জাহিদদের বিরামহীন অনুশীলন করতে গিয়ে হিতে বিপরীত হচ্ছে। খেলা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কোচ জানিয়েছেন, আজ খেলোয়াড়দের জন্য ভিডিও সেশন থাকবে, টকিং সেশন থাকবে। ক্লান্ত খেলোয়াড়দেরকে রিচার্জ করতে হবে।
আটদিন অনুশীলনরত খেলোয়াড়দের সাথে ছিলেন না ক্রুইফ। কোচ রাখা হলো বাংলাদেশের ফুটবল স্বপ্ন সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। অথচ তিনি পরিবার আনার কথা বলে দেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরার সময় পরিবার আনেননি। সাফ শুরুর প্রাক্কালে গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ে তার দেশে যাওয়ায় সমালোচিত হয়েছে। আট দিন না থাকায় বিরাট ক্ষতি হয়েছে খেলোয়াড়দের যা কিনা অপূরণীয়। জবাবে ক্রুইফ গতকাল বলেছেন, ‘আমি কোনো ছুটি কাটাতে যাইনি। হল্যান্ড গিয়ে ঢাকা থেকে জানতে পারলাম আমাদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়নি। এ কারণে আমি ফেরত এসেছি। বাফুফে সভাপতিকে জানিয়েছি, আমরা এভাবে কাজ করতে পারি না।’
এদিকে ক্রুইফ ঢাকায় আসার পর পরিবার আনতে গতকাল সকালে দেশে গেলেন তার স্বদেশী ও সহকারী কোচ রেনে কেস্তার। বাফুফে সূত্র জানিয়েছে, কোচদের আবাসন ব্যবস্থা হয়ে গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাস্য এখন পরিবার এনেই বা লাভ কী। কারণ কোচরা সাফ নিয়ে নেপালে ব্যস্ত থাকলে পরিবারের সঙ্গ পাবেন না। সাফের পরেও তো ক্রুইফ, রেনে কেস্তার পরিবার ঢাকায় আনতে পারতেন।
