‘গৌরবময় অনিশ্চয়তা’র খেলা ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিং আর স্পট ফিক্সিংয়ের কল্যাণে গৌরব আর নেই বললেই চলে। ক্রিকেটের এই দুর্দিনে একদিকে যেমন বাড়ছে দুর্নীতি তেমনি বাড়ছে এর সাথে জড়িত ক্রিকেটারদের মিছিল। আর ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটা যে অযৌক্তিক নয় সেটা বোঝা যায় একের পর এক ক্রিকেটারের দোষ স্বীকার করে নেয়ায়। এবার সেই পথেই হাঁটলেন স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে সাত বছরের জন্য নিষিদ্ধ পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আসিফ। বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের মতো তিনিও নিজের দোষ স্বীকার করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। সাথে সাথে আবার ক্রিকেটে ফিরে আসার ইচ্ছার কথাও জানালেন এই ক্রিকেটার।
করাচি প্রেসক্লাবে গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সামনে ২০১০ সালে লর্ডস টেস্টে তার উপর আনা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে আইসিসি’র ট্রাইবুন্যাল আমার জন্য যে শাস্তি নির্ধারণ করে দিয়েছে তা আমি মাথা পেতে নিয়েছি। আমার এই কাজ প্রাণপ্রিয় দেশের জন্য অনেক বড় অসম্মান বয়ে এনেছে। তাই দেশের সবার কাছে, দেশ ও সারা বিশ্বে আমার সমর্থকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে চাই। যখন আমি আমার ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকাই তখন আমার অনেক দুঃখবোধ হয়।’ সংবাদ সম্মেলনে অনুতপ্ত আসিফ আরও বলেন, ‘যারা জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখে তাদেরকে আমি সকল ধরনের দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিবো। যে কোন খেলোয়াড় এই ধরনের কোন সমস্যায় পড়লে আমি তাদের অবশ্যই সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি। ক্রিকেটের দুর্নীতি দমন করতে আমি আইসিসি, তাদের দুর্নীতি বিরোধী ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু) ও পিসিবিকে যেকোন ধরনের সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত আছি।’ সতীর্থ সালমান বাট ও মোহাম্মদ আমির নিজেদের দোষ স্বীকার করে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার পর তিন খেলোয়ারের মধ্যে তৃতীয় এবং সর্বশেষ হিসাবে দোষ স্বীকার করলেন ৩১ বছর বয়সী আসিফ। গত জুন মাসে নিজের দোষ স্বীকার করেন ক্ষমা প্রার্থনা করেন সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান বাট। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডস টেস্টে অর্থের বিনিময়ে ইচ্ছাকৃত নো বল করার অপরাধে আসিফ, আমির এবং তত্কালীন অধিনায়ক বাটকে নিষিদ্ধ করা হয়।
এক বছর পর আইসিসি’র দুর্নীতি বিরোধী একটি ট্রাইবুন্যাল সাসপেনসনসহ বাটকে ১০, আসিফকে ৭ এবং আমেরকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়। নিষিদ্ধাদেশের সাসপেনশন এড়াতে হলে প্রত্যেকের জন্য দোষ স্বীকার, ক্ষমা চাওয়া এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যোগদান বাধ্যতামূলক করে ট্রাইবুন্যাল। নিষিদ্ধাদেশ শেষ হলে আবারও ক্রিকেটে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা জানালেন মোহাম্মদ আসিফ, ‘আমাকে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি আইসিসিকে বিশেষভাবে অনুরোধ করবো। এর ফলে যখন আমার নিষিদ্ধাদেশের সময় শেষ হবে তখন আমার জন্য আবার দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার পথ সহজ হবে।
