বিশ্বের তাবত্ টেনিস ভক্তদের অবাক করে দিয়ে মাত্র ২৮ বছর বয়সেই টেনিস ক্যারিয়ারকে বিদায় জানালেন উইম্বলডন শিরোপাধারি মারিয়ন বারতোলি। মাত্র ছয় সপ্তাহ আগেই পরম আরাধ্য গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জেতা বারতোলি গত বুধবার রাতে সিনসিনাটি ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে হেরে যাওয়ার মিনিট খানেক পরই এই বোমা ফাটান। ধারণা করা হচ্ছে ক্রমাগত ইনজুরি সমস্যাই বারতোলিকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
বর্তমানে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ সপ্তম স্থানে থাকা এই ফরাসি এদিন অপ্রত্যাশিতভাবে ৩-৬, ৬-৪, ৬-১ গেমে হেরে যান রোমানিয়ার সিমোনা হালেপের কাছে। এরপর মাইকের কাছে গিয়ে সবাইকে চমকে দিয়ে ঘোষণা করেন, ‘এটাই বিদায় জানানোর সময় এবং আমি ক্যারিয়ারের শেষ ঘোষণা করছি। আমার মনে হচ্ছে শেষ বলার এটাই সময়।’
উইম্বলডন ফাইনালের আগে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা নিজেই জানিয়েছিলেন এমন একটা সুযোগের জন্যই সেই ছোট বেলা থেকে অপেক্ষা করছেন তিনি। প্রতিদিন এই একটা মাত্র কারণেই সমস্ত বাধা বিপত্তি আর শারীরিক ক্লান্তিকে পেছনে ফেলে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি। স্যাবাইন লিসিকিকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই শিরোপা জেতেন বারতোলি। আর এই প্রাপ্তিই বারতোলির আগের সেই লড়াকু মেজাজকে কেড়ে নিয়েছে, ইনজুরির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আগের সেই তীব্র ইচ্ছাকে কেড়ে নিয়েছে; এমনটাও ভাবছেন অনেকে।
বারতোলির ইঙ্গিতটাও ছিল তেমনই। চোট সমস্যার বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে তিনি ক্লান্ত জানিয়ে এক কোটি দশ লাখ ডলার প্রাইজমানি অর্জন করা বারতোলি জানান, ‘আমি বহু বছর ধরে টেনিস খেলছি। আর আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার সুযোগ আমি পেয়েছি। তবে সেজন্য নিজের সামর্থ্যের সবটুকুই আমাকে ঢেলে দিতে হযেছে। কিন্তু বলতেই হচ্ছে সেই লড়াই চালিয়ে যাওয়া আমার পক্ষে আর সম্ভব নয়।’
তবে বিদায় বেলায়ও উইম্বলডন শিরোপার কথা ভেবে ক্যারিয়ার নিয়ে সন্তুষ্টিই ঝরলো বারতোলির কণ্ঠে, ‘আমার মনে হচ্ছে আমার সামর্থ্যের সবটুকু আমি উইম্বলডনেই ঢেলে দিয়েছি। আমি এই ভেবে খুশি যে জীবনেও কেউ এটা আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। তবে এই মুহূর্তে আরো বড় কোন কিছু করার মতো শক্তি আমার মধ্যে অবশিষ্ট নেই।’
