পেশাদার লিগের ফুটবলারদের দলবদল স্থগিত

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৭
পেশাদার ফুটবল লিগের খেলোয়াড়দের দলবদল আজ শুক্রবার থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। গতকাল দুপুরেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) থেকে জানানো হয়েছিল যথাসময়ে শুরু হবে এই দলবদল। কিন্তু কাল সন্ধ্যার আগেই বাফুফে থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, আগামী বুধবার পর্যন্ত দলবদল স্থগিত থাকবে। ওইদিন লিগ কমিটির সভায় নতুন দিনক্ষণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। বাফুফে সম্পাদক সোহাগ অবশ্য দলবদল স্থগিত হওয়ার কারণ হিসাবে বললেন, ‘অনিবার্য কারণবশত।’ ভেতরের খবর হচ্ছে, কয়েকজন ফুটবলার দুই ক্লাব থেকে আগাম পারিশ্রমিক নিয়ে লিগ শুরুর আগেই জটিলতা সৃষ্টি করেছেন। ক্লাবগুলোর মধ্যে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। খেলোয়াড়রা দুই ক্লাব থেকে টাকা নিয়ে ক্লাবগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। জানা গেছে, এসব জটিলতার নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাবগুলো আজ থেকে দলবদলে অংশগ্রহণ করতে নারাজ। তার উপর বাইলজই যেখানে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি সেখানে দলবদল শুরু হয় কিভাবে। এ নিয়ে কথার চালাচালি চলছে বাফুফে এবং ক্লাবগুলোর মধ্যে। গতকাল বিকালে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক মোহামেডান, আবাহনী, শেখ রাসেল, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবসহ অন্যান্য ক্লাবের সাথে কথা বলে দলবদল স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে বুধবারের লিগ কমিটির সভায় হট্টগোল হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশংকা করছেন। কারণ বাইলজ অনুমোদনের চেয়ে অনেক ক্লাবের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে খেলোয়াড় নিয়ে কাড়াকাড়ি। শেখ রাসেলের খেলোয়াড় জাহিদ হোসেন, মামুন মিয়া, নাহিদুল ইসলাম নাহিদ এবং শেখ জামালের শাকিল আহমেদ মোহামেডানের কাছ থেকে নতুন মৌসুমের জন্য আগাম ১০ লাখ টাকা করে নিয়েও নাকি শেখ রাসেলে যোগ দিয়েছেন। কোথায় যোগ দিয়েছেন সেটা মোহামেডানের কাছে মুখ্য নয়। মোহামেডান তাদেরকে নিয়ম মেনে অর্থ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন। মোহামেডানের কাছ থেকে যেসব ফুটবলার আগাম অর্থ নিয়েছেন তাদের একটা তালিকা বাফুফেকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে অনেক আগেই। বাফুফেও জানিয়ে দিয়েছিল, দুই ক্লাব থেকে অর্থ নেয়া খেলোয়াড়রা যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা করে বিষয়টি সমাধান করে ফেলেন। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত সমাধানের কোনো খবর শোনা যায়নি। মোহামেডানের তালিকায় ছিলেন শেখ জামালের তৌহিদুল আলম সবুজ, অরূপ বৈদ্য, শাকিল, আরিফুল ইসলাম, ব্রাদার্স ইউনিয়নের ইউসুফ সিফাত, শেখ রাসেলের নাহিদ, জাহিদ, ইমন বাবু, মামুন মিয়া এবং এমিলি। মোহামেডান এবং শেখ রাসেলের মধ্যে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ। শেখ রাসেলের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরি বলেছেন, ‘একটা ক্লাবের সাথে চুক্তি থাকা অবস্থায় আরেকটি ক্লাব খেলোয়াড়ের সাথে চুক্তি করে তাকে বিভ্রান্ত করছে। এর জন্য ক্লাবগুলো দায়ী। মৌসুম চলাকালীন চুক্তি করা যায় না।’ মোহামেডানের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা যে মোহামেডানের এ ব্যাপারে তাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণাদি রয়েছে। তারা পেশাদার ফুটবল লিগের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেই টাকা নিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘খেলোয়াড়রা সংবাদ মাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন তারা মোহামেডানের পাশাপাশি অন্য ক্লাবের কাছ থেকেও টাকা নিয়েছেন।’ শেখ রাসেলের মিঠুন চৌধুরিও আবাহনীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা আগাম নিয়ে রাসেলেই ফিরেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।