পিঁয়াজের ঝাঁজে নাকাল ক্রেতা

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:২৯
লাগামহীনভাবে বাড়ছে পিঁয়াজের দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজের দাম ২৭ থেকে ২৮ টাকা ও দেশি পিঁয়াজের দাম ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর পিঁয়াজের এই ঝাঁজে রীতিমতো নাকাল ক্রেতা। পিঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেশে পিঁয়াজের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। কিন্তু হঠাত্ করে ভারতে পিঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকরা পিঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে দেশে চাহিদার তুলনায় পিঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। তাই অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম। তবে সেপ্টেম্বরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্নাটকে নতুন পিঁয়াজ উঠবে। এ পিঁয়াজ আসলেই বাজার স্বাভাবিক হবে। বৃহস্পতিবার নিউমার্কেট, মহাখালীসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজ ৭০ থেকে ৭২ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা বিক্রি হয়। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর হিসাবে এই দর গত এক বছরের তুলনায় যথাক্রমে ১৬৫ শতাংশ ও ৯০ শতাংশ বেশি। পিঁয়াজ আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে অতিবৃষ্টির ফলে পিঁয়াজের উত্পাদন কম হয়েছে। এছাড়া রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে খরার ফলে প্রায় ৪০ শতাংশ ফলন কম হয়েছে। এরই বিরূপ প্রভাব পড়েছে দেশটির পিঁয়াজের বাজারে। এর সাথে যোগ হয়েছে গত বছর রাজস্থানের কৃষকদের পিঁয়াজের ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও দাম না পাওয়া। তবে আশার কথা, ভারতের একটি দৈনিক জানিয়েছে, দেশটিতে পিঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও সে দেশের কৃষকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ভারত পিঁয়াজ রফতানি বন্ধ করবে না। গত বুধবার ভারতের একটি দৈনিক জানিয়েছে, ভারত তথা এশিয়ায় পিঁয়াজের সব থেকে বড় পাইকারী বাজার নাসিকের লাসালগাঁওতে ইতিমধ্যে পিঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৪৬ রুপি ছুঁয়েছে। বৃহস্পতিবার আমাদের কলকাতা প্রতিনিধি তারিক হাসান জানান, পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় পিঁয়াজের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গতকাল পশ্চিমবঙ্গে সাদা পিঁয়াজ ৭০ রুপি (৮৭.৫০ টাকা) ও লাল পিঁয়াজ ৮০ রুপি (১০০ টাকা), দিল্লীতে সাদা পিঁয়াজ ৮০ রুপি ও লাল পিঁয়াজ ৯০ রুপি দরে বিক্রি হয়। তিনি জানান, পিঁয়াজের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য দপ্তর সেখানকার ৬টি বাজারে ন্যায্যমূল্যে পিঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। কাওরানবাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী সালাম বলেন, ভারতে এখন যে দামে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সেই দরে আমদানিতে সাহস হচ্ছে না। যে কারণে আমদানিকারকরা পিঁয়াজ আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে পাইকারী বাজারেই আমদানিকৃত পিঁয়াজ মানভেদে ৬৬ থেকে ৬৮ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগে ঈদের সময়ও পাইকারী বাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজের দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। এই বাজারের আরেক পাইকারী ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, দেশে দেশি পিঁয়াজের যে মজুদ আছে তা দিয়ে বড়জোর একমাস চলবে। এছাড়া কোরবানি ঈদের আগে নতুন দেশি পিঁয়াজও বাজারে আসবে না। তবে ভারত থেকে পিঁয়াজ সরবরাহ বাড়লে দাম কমে আসবে। সেপ্টেম্বরে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্নাটকে নতুন পিঁয়াজ উঠবে। এ পিঁয়াজ আসলেই বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।