শিল্পী খুরশিদ আলম সেলিম যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন তিন দশক ধরে। সমকালীন চিত্রকলায় যুক্তরাষ্ট্রে তিনি পরিচিত একটি নাম। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী হিসাবে শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে বিশেষ স্বর্ণপদক অর্জন করেন। এই অর্জনকে সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেস এই শিল্পীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে।
নিউইয়র্ক সিটিতে তার নিজস্ব গ্যালারি রয়েছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পর্যন্ত তার ৫৩টি একক চিত্রকর্ম প্রদর্শিত। তারপরও প্রতিবছর দেশের টানে চলে আসেন বাংলাদেশে। আয়োজন করেন চিত্র প্রদর্শনীর। গতকাল ধানমন্ডির গ্যালারি শিল্পাঙ্গনে শুরু হয়েছে তার ৫৪তম একক চিত্র প্রদর্শনী।
শিল্পী সেলিম বললেন, দেশের টানে আসি কিন্তু দেশের চিত্রকলাকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরার জন্য কিছু কাজও করতে চাই। নিউইয়র্ক বিশ্বের বড় শিল্পভূমি। প্রায় দু’হাজার গ্যালারি রয়েছে সেখানে। বাংলাদেশের শিল্পীদের যদি সেই বাজারে প্রবেশ করানো যায় সেটা খুব বড় অগ্রগতি হবে। তিনি বলেন, আমার নিজের একটা গ্যালারি রয়েছে সেই গ্যালারিতেও আমি দেশের শিল্পীদের প্রদর্শনীর আয়োজন করছি। এছাড়া বাংলাদেশের পথশিশুদের জন্য কাজ করার লক্ষ্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি শিল্পীদের ছবি নিলামেরও একটি আয়োজন হাতে নিয়েছি। বাংলাদেশি শিল্পীদের কাজ ভালো। শুধু তাদের তুলে ধরতে হবে বিশ্ববাজারে।
শুক্রবার গ্যালারি শিল্পাঙ্গনে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট লেখক ও চিত্র সমালোচক ইনাম আহমেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেঙ্গল গ্যালারির পরিচালক সুবীর চৌধুরী। উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন শিল্পাঙ্গনের চেয়ারপার্সন রোকেয়া কাদের।
বিমূর্ত বা অ্যাবস্ট্রাক্ট বলে কিছু নেই। সবই মূর্ত-রিয়্যালিস্টিক। যেসব বস্তু আমাদের বোধের সীমানার বাইরে তাকে আমরা বিমূর্ত বলি। আমার ছবিতেও বিষয় রয়েছে। তবে সেসব বিষয় আমি দেখি ভিন্নভাবে। হয়তো তা প্রচলিত কাঠামোর বাইরে। এমনটিই বলছিলেন প্রবাসী শিল্পী খুরশীদ আলম সেলিম। তার চিত্রকর্ম উজ্জ্বল রঙের আমন্ত্রণ জানায়। শিল্পী মূলত বিমূর্ত ছবি আঁকেন। তার ছবির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বৃত্তাকার ও চারকোনা আকৃতির ব্যবহার। কেন বিমূর্ত ছবি আঁকেন? শিল্পী বলেন, পৃথিবীর সবকিছুই বিমূর্ত। রিয়্যালিস্টিক ছবিও কিন্তু একটা ফর্ম। মানুষ যেসব জিনিসকে চিনতে পেরেছে বা যেসব বস্তুর নাম দিতে পেরেছে সেগুলোই শুধু সত্যি তা নয়। আমার ছবিও সত্যাশ্রয়ী। অ্যাক্রেলিকে উজ্জ্বল রঙের কাজ শিল্পীর আরেকটি বৈশিষ্ট্য। লাল, নীল, হলুদ, কমলা, সাদার কম্বিনেশন মানুষকে সচকিত করে তোলে।
শিল্পী বলেন, ছবি আঁকি আত্মার শান্তির জন্য। এই শান্তি আবার নির্ভর করে ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনার ওপরে। একজন শিল্পীর কাজের গুণগত মান যদি ভাল হয়, ছবির বিষয় যাই হোক না কেন তাকে ভাল শিল্পী বলা যায়।
প্রদর্শনী চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। শিল্পী খুরশিদ আলম সেলিম ১৯৭৬ সালে ঢাকার চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে গ্রাজুয়েশন লাভ করেন। পরে আশির দশকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। এ পর্যন্ত তিনি অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। চীন, তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত, সুইডেন, অস্ট্রিয়া, মরক্কো এবং বাংলাদেশে তার ৫৪টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া চীন ও মরক্কোর সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় সেলিমের একক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
