রাজশাহীর পুঠিয়ার এক কলেজের শিক্ষার্থী মিনারা। তিনি জানান, প্রায় প্রতি রাতেই তাকে মোবাইল ফোনে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করে এক লোক। বিয়েতে রাজি না হলে তাকে উঠিয়ে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। ফোন বন্ধ রেখে কিংবা কোম্পানিতে অভিযোগ করেও এ বিপদ থেকে মুক্তি মিলছে না তার। অপরিচিত সে মোবাইল নম্বর থেকে দিনে-রাতে মিসকল দেয়া হয় তাকে।
রাজধানীর একটি করপোরেট হাউসের কর্মকর্তা আফরিন সুলতানার ফেসবুকে খোলামেলা সব ছবি ট্যাগ করা হচ্ছে অচেনা অ্যাকাউন্ট থেকে। ওয়ালে লেখা হচ্ছে অশ্ল¬ীল সব কথাবার্তা। কে, কীভাবে এসব করছে ধরতে না পেরে শেষে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বাধ্য হন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি দৈনিক পত্রিকায় কর্মরত নারী সাংবাদিক জানান, ই-মেইলে ও ফেসবুকের মাধ্যমে নোংরা আক্রমণের শিকার হয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে ফেলার কথা ভাবছেন তিনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে অপরিচিত মেয়েদের মোবাইল নম্বর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম্পিউটার, ইন্টারনেট বা মোবাইল ফোন একদিকে মানুষের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, অন্যদিকে নারীর জীবনে বয়ে এনেছে নির্যাতনের নতুন কৌশল।
সাইবার অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে নারী। ছাত্রী, গৃহবধূ থেকে সাংবাদিকও বাদ পড়ছেন না প্রযুক্তিগত এই নির্যাতন থেকে। রাজধানীসহ সারাদেশে সাইবার অপরাধীদের দৌরাত্ম্য ও নারী নির্যাতন বাড়লেও এর সঠিক পরিসংখ্যান নেই আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে।
এদিকে আইন সংশ্লি¬ষ্টদের অভিমত, হাইকোর্ট এ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করলেও তার নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং বিষয়টি আমলে নিয়ে এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নেয়ায় সাইবার অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের মতে, এ সংক্রান্ত আইন হলেও এর ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে রুলের নিষ্পত্তি।
প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নারীকে অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ ধরনের নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে ফেসবুকে অশ্ল¬ীল ছবি প্রদর্শন, অশ্ল¬ীল ভাষায় চ্যাট করা, ই-মেইলে হুমকি প্রদান ও বিভিন্ন নোংরা লেখা পাঠানো, খুব কাছের ব্যক্তি বা পরিচিতজনদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধ, ফেসবুকে নতুন ঠিকানা খুলে প্রতারণা করা, কিছুদিন পর পর ছবি সংযোজন, অন্যের অ্যাকাউন্টে অশ্ল¬ীল ছবি ট্যাগ করা, পাসওয়ার্ড আবিষ্কারের মাধ্যমে অন্যের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ওয়ালে নেতিবাচক বা মিথ্যা কমেন্টস করা প্রভৃতি। এছাড়া মোবাইল ফোনে অপরিচিত নারীর ছবি তোলা বা ভিডিও করা, যখন তখন মিসকল দিয়ে বিরক্ত করা, অপরিচিত নম্বরে ফোন করে প্রেম নিবেদন বা কুরুচিপূর্ণ কথা বলা, আজেবাজে মেসেজ পাঠানোসহ নানাভাবে বিরক্ত করা হচ্ছে কিশোরী-তরুণীদের।
