‘আমার কোনো সন্দেহ নেই যে অক্টোবরের মাঝামাঝির আগেই নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যাবে। এর মধ্যে (সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে) আমরা বাকী মূল ভেন্যুগুলো ও বিকল্প ভেন্যুর কাজ পুরো শেষ করে ফেলবো। তবে সিলেটের কাজটা সেপ্টেম্বর ৩০ তারিখের মধ্যে শেষ করা কঠিন হবে।’
সবকিছু ঠিক থাকলে গতকাল রাতেই ঢাকায় পৌঁছে যাওয়ার কথা আইসিসির ভেন্যু পরিদর্শক দলের। আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভেন্যুগুলো—বিশেষ করে কক্সবাজার ও সিলেটের বিশেষ পরিদর্শনে এবার ঢাকা এসেছে এই দলটি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও ইতিমধ্যে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে দুরুদুরু বুকে চেয়ে থাকবে এই পরিদর্শক দলের রিপোর্টের দিকে।
রিপোর্ট যে ইতিবাচক হবে এবং যথাসময়ে, মানে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে, সে ব্যাপারে বিসিবির সভাপতি থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কারোরই তেমন কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিসিবি সভাপতি সিলেটের উন্নয়ন কাজ ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ করা যাবে না বলেই মনে করছেন। তাই বাকী সব কাজ শেষ করার নিশ্চয়তা ও কাজের গতি দিয়ে এই কমিটিকে সন্তুষ্ট করে সিলেটের জন্য আরও পনেরো দিন বাড়তি সময় চাওয়ার পক্ষে তিনি।
বিশ্বকাপের সবগুলো ভেন্যুর অবস্থাই দেখবেন বাংলাদেশ সফররত এই চার সদস্যের পরিদর্শক দল। তবে মূল গুরুত্ব পাবে কক্সবাজার ও সিলেট ভেন্যু। এই দুটি ভেন্যুর নির্মাণ ও সংস্কার কাজ নিয়ে বেশ অসন্তুষ্ট ছিল আইসিসি। নিয়ম অনুযায়ী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভেন্যুর কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু আইসিসি মনে করছিল অন্তত সিলেট ও কক্সবাজারের ক্ষেত্রে সেটা পারবে না বাংলাদেশ। পরে আইসিসির লন্ডন সভায় বিসিবির অনুরোধে তারা এই আগস্টে বিশেষ পরিদর্শন করে দুটি ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রাজী হয়েছে। সেই বিশেষ পরিদর্শনই শুরু হচ্ছে আজ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত।
বিসিবি মোটামুটি নিশ্চিত যে কাজের যা গতি, তা দেখে পরিদর্শক দলের খুশি হওয়ার বিকল্প নেই। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম, কক্সবাজারের ‘সাময়িক স্টেডিয়াম’ এবং দুটি বিকল্প ভেন্যু ফতুল্লাহ ও বিকেএসপি নিয়ে কারোরই তেমন কোনো সংশয় নেই। শুধু একটু কিন্তু আছে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম নিয়ে।
যদিও কাজের গতি দুর্দান্ত বলেই সবাই বলছেন; নাজমুল হাসান পাপনও মনে করছেন কাজের গতি ভালো। কিন্তু ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে তিনি বলেছেন, অক্টোবরের মাঝামাঝির আগে আসলে সিলেটের কাজ শেষ করা সম্ভব না, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই যে অক্টোবরের মাঝামাঝির আগেই নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যাবে। এর মধ্যে (সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে) আমরা বাকী মূল ভেন্যুগুলো ও বিকল্প ভেন্যুর কাজ পুরো শেষ করে ফেলবো। তবে সিলেটের কাজটা সেপ্টেম্বর ৩০ তারিখের মধ্যে শেষ করা কঠিন হবে।’
সিলেটের কাজ সরেজমিনে দেখে এসে অবশ্য ক্রিকইনফোও সন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রায় চারশত কর্মী প্রতিদিন উদায়স্ত পরিশ্রম করছেন এই ভেন্যু নিয়ে। এরই মধ্যে সরকারও সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছে এই ব্যাপারে। সিলেটেরই মানুষ, বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এর মধ্যে একাধিকবার নির্মাণ কাজ দেখে গেছেন। ফলে এখন সিলেটবাসী আশায় বুক বাধতেই পারে।
