মালয়েশিয়ার অলিম্পিক ফুটবল দলের সাথে বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা হচ্ছে না। ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। বাফুফে যখন মালয়েশিয়ান দলের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার জন্য সব ঠিকঠাক করে আজ প্লেনের টিকিট কনফার্ম করতে যাবে তখনই অনুরোধ আসলো মালয়েশিয়ায় না যাওয়ার জন্য। ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ নিজেই বাফুফেকে জানিয়ে দিলেন তিনি মালয়েশিয়ায় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে যেতে চান না। কারণটাও উল্লেখ করেছেন এই ডাচ। তিনি বাফুফেকে বলেছেন তার দলে পাঁচজন ফুটবলার আছেন যারা কিছুটা ইনজুরিতে রয়েছেন। এই অবস্থায় ম্যাচ খেললে ইনজুরি বাড়তে পারে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস ট্রেনিংটা আরো প্রয়োজন, তাছাড়া মালয়েশিয়ায় যাওয়া সেখানে থেকে নেপালে যাওয়া, ভ্রমণটা নাকি ক্লান্তি এনে দিতে পারে। এরকম বেশ কিছু কারণ তুলে ধরেছেন তিনি। যত রকম যুক্তি রয়েছে তার সবই তুলে ধরেছেন ক্রুইফ। জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিলের সাথে দুই ঘন্টা আলোচনা হয়েছে মালয়েশিয়ায় না যাওয়ার ব্যাপারে। সব রকম যুক্তি তুলে ধরে তা খন্ডন করতে দুই ঘন্টা লেগেছে ক্রুইফের। নাবিল জানিয়েছেন, দুই ঘন্টা আলোচনা হয়েছে, ক্রুইফ মালয়েশিয়া যেতে চাইছেন না। আমরা তার কথা সায় দিয়েছি। ক্রুইফ দলটাকে যেভাবে চাইছেন আমরা সেভাবে দেয়ার চেষ্টা করছি। কোনো কিছুতেই আপত্তি করছি না। কারণ আমরা চাই একটা সাফল্য পেতে।’ তিনি বলেন, এখন কোনো প্রশ্ন করতে চাইছি না। সাফের পরও যেন প্রশ্ন করতে না হয় এমন ভালো কিছুই আমরা প্রত্যাশা করছি।’ অতিরিক্ত অনুশীলনই এখন জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মূল সমস্যা। বিরামহীন অনুশীলনের কারণে খেলোয়াড়রা ক্লান্ত। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দেয়ার কারণে খেলোয়াড়রা অনেকেই ইনজুরিতে পড়ছেন। কেউ প্রকাশ করতে পারছেন না। বুঝতে পারছেন ক্রুইফ। বিশ্রামহীন চাপ নিতে গিয়ে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম খেলোয়াড়দের। এই অবস্থায় মালয়েশিয়ায় অলিম্পিক দলের সাথে খেলতে গেলে ক্রুইফের খেলোয়াড়দের অবস্থা আরো খারাপ হবে। সেটা অনুধাবন করতে পারছেন তিনি। অথচ সাফের আগে এখন দলের জন্য এসিড টেস্ট হওয়াটাই জরুরি ছিল। দীর্ঘ অনুশীলনে খেলোয়াড়দের লেভেলটা কোথায় পৌঁছালো সেটা দেখা যেতো। কিন্তু ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কোচ। পিছ পা হয়েছেন তিনি। সকাল ১০টা থেকে জাতীয় দলের অনুশীলন শুরু হয়। শেষ হয় ১২টা সাড়ে ১২টায়। এরপর দুপুরের খাওয়া। এরপর থিওরিটিক্যাল ক্লাস শুরু। বেলা দু’টায় কাঠফাটা রৌদ্রে আবার খেলোয়াড়দের মাঠে নামিয়ে দেন ক্রুইফ। সকালের অনুশীলনের পর বিশ্রাম না নিয়েই আবার দ্বিতীয় সেশনের অনুশীলন শুরু। ধকল সইতে গিয়ে জাতীয় দলের ফুটবলারদের ওষ্ঠাগত অবস্থা। তাতে কিছু যায় আসে না ক্রুইফের।
কিন্তু কেনই বা মাঝ পথে বিরতি না দিয়েই অনুশীলন করালেন তিনি, কারো বোধগম্য হচ্ছে না। গুঞ্জন রয়েছে দুই বেলা অনুশীলন করাতে গেলে যদিও এখন বেলা দুইটার পরিবর্তে বিকাল সাড়ে চারটায় অনুশীলন শুরু হয়েছে। তাতেই বা কি, যা ক্ষতি হওয়ার তা তো হয়েই গেছে।
সব সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা দেয়ার পরও সাফের গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলনের সময় আট দিন দেশে কাটিয়ে এসেছেন ক্রুইফ। ফিকশ্চার ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরও ক্রুইফ বাড়ি গিয়েছেন। তিনি ঢাকায় ফিরেছেন পরদিন তার স্বদেশি সহকারি কোচ রেনে কেস্তার গিয়েছেন দেশে। দল ফেলে রেখে ডাচদের দেশে যাওয়া-আসা আর বিরামহীন অনুশীলনের কারণে ক্ষতি হয়েছে কিনা সেটা সাফেই বুঝা যাবে। সাফে নেপালের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৩১ আগস্ট।
