বিসিবি
নির্বাচন
‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বর্তমানে একজন অনভিজ্ঞ প্রধান দিয়ে পরিচালনা হচ্ছে। তার অধীনে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রসার হচ্ছে না। জেলা ও বিভাগে স্কুল পর্যায়ের কোন খেলা মাঠে গড়াচ্ছে না। তাই তার (নাজমুল হাসান পাপন) প্যানেলকে সমর্থন করার সুযোগ নেই।’
স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদ। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও বিভাগীয় সংগঠকদের এ ফোরামটি জানিয়ে দিয়েছে তারা বিসিবি’র আসন্ন নির্বাচনে কোনভাবেই বর্তমান সভাপতিকে সমর্থন দেবে না।
ফোরাম অবশ্য জানায়নি কাকে সমর্থন করবে। তবে সংবাদ সম্মেলনেই জানানো হয় ফোরাম নেতৃবৃন্দ গতকাল সকালেই সাবেক বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি’র সাথে বৈঠক করেছেন। একই সাথে বলা হয় আগে বিসিবির ১০ জন পরিচালক নির্বাচিত হোক। তারপর তারা ঠিক করবেন কাকে সমর্থন দেবেন।
এরপর বেলা ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে ফোরাম সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবু বিসিবি নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বর্তমানে একজন অনভিজ্ঞ প্রধান দিয়ে পরিচালনা হচ্ছে। তার অধীনে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রসার হচ্ছে না। জেলা ও বিভাগে স্কুল পর্যায়ের কোন খেলা মাঠে গড়াচ্ছে না। তাই তার (নাজমুল হাসান পাপন) প্যানেলকে সমর্থন করার সুযোগ নেই।’
ইউসুফ জামিল আরও বলেন, ‘তিনি (বিসিবি সভাপতি) প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে জেলা প্রশাসককে ফোন করাচ্ছেন কাউন্সিলর ঠিক করতে। জেলা ছাড়া উপায় নেই। স্পষ্ট করে বলতে চাই, কোনো কর্মকর্তা দিয়ে প্রভাব বিস্তার করলে, আমরা প্রতিরোধ করবো। প্রধানমন্ত্রী কারো পক্ষে নেই। অনিয়ম করলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। ক্ষমতা সবসময় থাকে না। ওনাকে জবাব দিতে হবে।’
বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের (বিওএ) উপমহাসচিব ও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু বলেন, ‘ওনারা নির্বাচন প্রভাবান্বিত করার চেষ্টা করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দিয়ে ফোন করাচ্ছেন। আমাদের রক্তে মাংসে খেলাধুলা। আমরা চাই অর্থবহ, প্রভাবমুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন।’
বিসিবি নির্বাচনের আগে ২০টি জেলায় প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ফোরামের নেতারা। এই জেলাগুলোর তালিকা না দিয়ে ফোরাম নেতৃবৃন্দ কুমিল্লা, শরিয়তপুর, ফেনী ও নড়াইলের নাম উল্লেখ করে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান কামনা করেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হস্তক্ষেপ চলতে থাকলে ফোরামের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ব্যবস্থা বলতে কি বোঝানো হচ্ছে জানতে চাইলে তারা সরাসরি কোন উত্তর না দিয়ে দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ফোরাম সভাপতি এই ব্যাপারে বলেন, ‘সময় ও পরিস্থিতিই বলে দিবে সেই ব্যবস্থাটা কি হবে। আগে থেকে আমরা কিছু বলতে চাই না। এখন পর্যন্ত আমরা আশাবাদী। জেলা প্রশাসকরা আমাদের সভাপতি। আমাদের সুখ-দুঃখের সাথে তারা জড়িত। তারা অনেক বেশি মেধাবী। তারা নিজেদের বিচার বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে যথাযথ গঠনতান্তিক উপায়ে কাউন্সিলরশীপ দিবে। ইতিমধ্যেই আমার এই ব্যাপারে কয়েকটি জায়গা থেকে আশ্বাস পেয়েছি।’
নির্বাচনে কাকে সমর্থন করতে যাচ্ছেন জানতে চাইলে কোন মন্তব্য করেননি ফোরাম নেতারা। এ প্রসঙ্গে ইউসুফ জামিল বাবু বলেন, ‘এখনই এই ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না। আগে দশজন পরিচালক নির্বাচিত হয়ে আসবেন। এরপর আমরা বিবেচনা করবো এদের মধ্য থেকে কাকে আমরা সভাপতির জন্য সমর্থন করবো। তাই আগে থেকেই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আর যাই হোক পাপন সাহেবকে কোনভাবেই আমরা সমর্থন করবো না।’
