৩৮ বছর পর পূর্ণতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:০৭
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য শোকের দিবস। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কাছে দিনটি অপ্রাপ্তি ও শূন্যতাবোধের। কেননা মুক্তিযুদ্ধের পর ঐদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তার শ্রেষ্ঠতম ছাত্রদের একজনকে সম্মানিত করতে অপেক্ষা করেছিল। নবগঠিত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐ সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে বক্তৃতা দেয়ার কথা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও জাতির জনকের উদ্দেশে তৈরি করে রেখেছিলেন মানপত্র। প্রস্তুত করা হয়েছিল বিভিন্ন উপহার সামগ্রীও। কিন্তু ঘাতকের গুলিতে ঐদিন ভোরেই নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সারাদেশ শোকে মূহ্যমান হলো। আর উত্সবের রঙে রঙিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আরো বেশি বেদনাহত হয় ইতিহাসের মহামানবকে কাছে না পাওয়ার, আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করতে না পারার বেদনায়। ৩৮ বছর সেই বেদনা ও অপ্রাপ্তি কিছুটা লাঘব করলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশে রচিত মানপত্র এবং শুভেচ্ছা উপহার সামগ্রী হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। শনিবার দুপুরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৯৭৫ সালে রচিত ঐ মানপত্র ও উপহার সামগ্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি মানপত্রও পাঠ করেন। মানপত্র ও শুভেচ্ছা উপহার গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি এ উপহার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করার ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক সহিদ আকতার হুসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীন, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল বারকাত প্রমুখ।