পর্যবেক্ষণ

প্রতিযোগিতা দূরের কথা... অস্তিত্ব নিয়েই নতুন সংকট!

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৩, ২০:১৮
ঈদের ছবির সমীকরণ পাল্টে গেছে প্রায় দু’বছর আগেই। তবে এই পরিবর্তনটা এখনও ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারেনি। কারণটা হলো ডিজিটাল ব্যবস্থা এখনও সুষ্ঠুভাবে প্রদর্শিত হতে শুরু করেনি। সর্বসাকুল্যে একশ সিনেমা বেসরকারি উদ্যোগে ডিজিটাল হলেও এর বাইরের সিনেমা হলগুলো এখনও সেই অ্যানালগই রয়ে গেছে। আর প্রতিটি সিনেমা হলের প্রিন্ট খরচ বেড়ে যাওয়ায় এখনকার এই মন্দা বাজারে কেউ সিনেমার ফ্লিম প্রিন্ট করতে চান না। সকলে তাই সহজ ও কম খরচের এই ডিজিটালের ওপরে ভরসা রাখেন। সেই দিক দিয়ে ডিজিটাল ও অ্যানালগ মিলিয়ে অনন্ত জলিল পরিচালিত ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ ও ‘ভালোবাসা আজকাল’ ছবি দুটি এবারের ঈদে আলোচনায় এসেছে। ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ ছবিটি দুদিক দিয়েই এগিয়ে। কারণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় ছবিটি মুক্তির পাশাপাশি প্রায় অর্ধশত ফিল্মে তিনি ছবিটি প্রিন্ট করেছেন। ফলে দর্শক চাহিদা অনুযায়ী ছবিটি সর্বত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ডিজিটাল আর এই অ্যানালগের মারপ্যাঁচে সাকুল্যে তিনটি ছবি মুক্তি দেওয়ার কারণে অনেকেই মনে করছেন এবারের ঈদের ছবি মুক্তির বিষয়টি অনেকটা মনোপলি হয়ে গেছে। অন্যদিকে গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে গেছে কলকাতা তথা ভারতীয় ছবি আমদানির বিষয়টি। ঈদের পরপর হঠাত্ করে প্রসেনজিতের ঢাকায় সফর তার উদ্যোগে ২৫টি পশ্চিমবাংলার ছবির ব্যাপারে আলোচনা, অন্যদিকে বাংলাদেশের আরেক বৃহত্ সিনেপ্লেক্স যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার থিয়েটার হলে শাহরুখ খানের ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ ছবিটির প্রদর্শনীর অনুমতি প্রদান সবকিছুই এখন বড় আশঙ্কার নাম। আর এই উদ্যোগের ব্যাপারে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সিনিয়র অভিনয়শিল্পী, পরিচালকদের সাথে কোনো আলোচনা করছে না কর্তৃপক্ষ। আর তাই অনেকে মনে করছেন এবারের ঈদে এই হিন্দি ও ওপার বাংলার চলচ্চিত্র সরাসরি আঘাতে ব্যর্থ হলেও আগামী ঈদে ঠিকই জেঁকে বসবে। সেক্ষেত্রে শাহরুখ বা সালমানের ছবির সামনে আমাদের ছবি কতটুকু ভরসা নিয়ে দাঁড়াবে—সেটিই প্রশ্নসাপেক্ষ বিষয়। সেক্ষেত্রে ঈদের ছবি সংখ্যায় যেন আরও কমে শূন্যের কোঠায় এসে ঠেকতে পারে। তাই অডিওতে ফ্রি ডাউনলোড আতঙ্ক, টিভি নাটকে বিজ্ঞাপন নীতিমালা ও স্যাটেলাইট নীতিমালার বিষয়ে যেমন সবাইকে নজর দিতে হবে, তেমনি চলচ্চিত্রের এই খানিক আশার আলোর পথে আবারও এই ভারতীয় চলচ্চিত্রের আগ্রাসন নিয়ে সকলের সচেতনতাও তাই বিশেষভাবে জরুরি হয়ে পড়েছে আজ। তাই ঈদের ছবির এইবারের বাজার নিয়ে কেউ উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতে পারছে না। মন্দের ভালো বলতে ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’, ‘মাই নেম ইজ খান’ ও ‘ভালোবাসা আজকাল’ তিনটি ছবিই অ্যাভারেজ ব্যবসার ভেতরেই আটকে আছে। হয়তো প্রচার আর আলোচনা এবং দর্শক আগ্রহের দিক দিয়ে অনেকখানি এগিয়ে অনন্তের ছবি। অন্যদিকে শাকিব খানের দুটি ছবি একসাথে মুক্তি পাওয়ায়, নিজের সাথেই নিজের যুদ্ধে পরাস্ত হতে হয়েছে তাকে। তবে ঈদের চলচ্চিত্র বাজারের মূল আলোচনা এখন প্রতিযোগিতা নয়, বাংলা সিনেমার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়ে। দেশীয় চলচ্চিত্রের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আন্দোলন কতটা গড়ে উঠতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে এ ব্যাপারে সিনিয়র শিল্পী ও পরিচালকদের একত্রিত হয়ে উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প কেউ ভাবতে পারছেন না।