বাংলাদেশ টেস্ট স্টাটাস পাওয়ার পর এমন অবস্থা আগে কখনো তৈরি হয়েছে বলে মনে হয় না। মাসের পর মাস মাঠে কোনো খেলা নেই। অথচ প্রতিদিনই মাঠের বাইরের বিচিত্র সব কারণে সংবাদ শিরোনামে আছে ক্রিকেট। ফিক্সিং, ট্রাইব্যুনাল, মামলা, নির্বাচন, ভেন্যু, তর্ক-বিতর্ক; ক্রিকেটের বাইরের নানা উপকরণে ভরপুর এখন ক্রিকেট ময়দান।
এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটাররাও যে কমবেশি বিচলিত, সেটা বুঝতে কারো মন্তব্য না হলেও চলে। তারপরও কাল ঈদের ছুটি কাটিয়ে এসে প্রথম দিনের অনুশীলনে যোগ দিয়ে জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম স্বীকার করলেন, এসব অক্রিকেটীয় আলোচনা তাদের মনোসংযোগে যথেষ্টই বিচ্যুতি ঘটাচ্ছে। এখন তাদের কামনা একটাই—যতোদ্রুত সম্ভব এসব ক্রিকেটবহির্ভূত ব্যাপার শেষ হোক, ফিরে আসুক ক্রিকেটীয় পরিবেশ।
বাংলাদেশ ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব-২৩ দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দল দেশের বাইরে থাকায় জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প ছুটির বেশ আগে থেকেই সংক্ষিপ্ত একটা চেহারা পেয়েছে। এর সঙ্গে আবার সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালও আছেন ক্যারিবিয় প্রিমিয়ার লিগ খেলতে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজে। সব মিলিয়ে জনা বারো খেলোয়াড় নিয়ে কাল আবার শুরু হল শেন জার্গুনসেনের ‘ক্লাস’।
এবার সেই অনুশীলনে একটু অন্য মাত্রা যোগ হচ্ছে বলেই জানালেন মুশফিক। মূলত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটাকে মাথায় রেখে এবার ক্যাম্পে স্কিল নিয়ে বেশি কাজ করা হবে বলে বলছেন অধিনায়ক, ‘এখন নিউজিল্যান্ডকে মাথায় রেখে কাজ করছি। ঈদের আগে মূলত কন্ডিশনিং ক্যাম্প হয়েছে। ফিটনেস নিয়েই বেশি কাজ হয়েছে। এখন স্কিল নিয়ে কাজ বেশি হবে। হোমওয়ার্ক যতো ভালো করা হবে, ফল ততো ভালো আসবে। ওদের (নিউজিল্যান্ডের) তিন থেকে চারটে বাঁহাতি পেসার আছে। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের এখন বাঁহাতি পেসার খুব নেই। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ দলটা দেশে ফিরলে, ওদের দলে বেশ কয়েকটা লেফট আর্ম পেসার আছে। ওরা ক্যাম্পে থাকবে।’
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজটা মাথায় চলে এলেই তাদের বিপক্ষে সর্বশেষ হোম সিরিজটাও আলোচনায় চলে আসে। সেবার সারা বিশ্বকে চমকে দিয়ে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ করেছিল ‘ব্ল্যাক ক্যাপস’দের। সেই প্রসঙ্গ আসতে মুশফিকও স্বীকার করলেন, ওই সিরিজটা তাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাবে। তবে ওটার কথা ভেবে আত্মতৃপ্ত হয়ে পড়ারও কোনো কারণ দেখছেন না তিনি, ‘সেই সিরিজের জন্য একটা মানসিক অ্যাডভান্টেজ তো আমাদের থাকবেই। নিউজিল্যান্ডেরও এটা মাথায় থাকবে—সর্বশেষ ওরা যখন এসেছিল তখন হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। তবে এখন সবকিছুই বদলে গেছে। ওরা এখন অনেক ভালো খেলছে। আমাদের দলেও অনেক ভালো ক্রিকেটার আছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছি। আমার মনে হয় খুব ভালো একটা সিরিজ হবে।’
তবে দিনশেষে আসল কথা হল, এসব খুটিনাটি ব্যাপার নিয়ে কী একান্তভাবে ভাবতে পারছেন মুশফিকরা? নাকি এই ফিক্সিং, নির্বাচন নিয়ে হইচই তাদেরও নাড়িয়ে দিচ্ছে। মুশফিক স্বীকার করলেন, এতো সব অক্রিকেটীয় ব্যাপার-স্যাপার তাদের ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে সেটা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন তারা। আর আশা করেন, যতোদ্রুত সম্ভব শেষ হয়ে যাবে এসব আলোচনা, ‘এসব আলোচনায় তো অবশ্যই মনোসংযোগ নড়ে যায়। অবশ্যই এখন আমরা আশা করবো, যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব যেন মাঠের বাইরের এসব আলোচনা শেষ হয়। আমাদের ক্রিকেটের যে সুন্দর পরিবেশটা ছিল সেটা যেন তাড়াতাড়ি ফিরে আসে। এটা খুবই বাড়তি চাপ তৈরি করে। ক্রিকেট এমনিতেই খুব চাপের খেলা। তবে আমরা যারা আছি, আমরা চেষ্টা করছি নিজেদের অনুপ্রাণিত রাখার। আমরা আশা করবো যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব শেষ হয়ে যাবে।’
সবকিছু থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু দু’ দিন আগেও যারা ছিলেন সতীর্থ, রোজকার মাঠের সঙ্গী; সেই আশরাফুল, রবিন, রুবেলদের এভাবে অভিযুক্ত হয়ে যাওয়ার ধাক্কা কিভাবে এড়িয়ে থাকেন মুশফিকরা? মুশফিক আগেও বলেছেন, কাল আবারও বললেন, এইসব সতীর্থদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় তারা খুবই আহত। তবে সেই সঙ্গে অপরাধ কেউ করে থাকলে শাস্তি চাইতেও ভুললেন না, ‘আগেও বলেছি, আমরা খুব শকড হয়েছি। আপনার সহকর্মীদের কেউ এসব কিছুতে জড়িত থাকলে খারাপ লাগারই কথা। একই সঙ্গে এটাও বলছি, কেউ দোষী হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বিসিবি আছে, আইসিসি আছে; তারা ব্যবস্থা নেবে। আর এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে সব পর্যায়েই সবার শিক্ষা নেয়া উচিত।’
