নতুন প্রজন্ম চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং চলচ্চিত্রগ্রাহক ও সাংবাদিক মিশুক মুনিরের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবে। এর মাধ্যমেই তারা বেঁচে থাকবে। তাদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে গতকাল রবিবার তারেক-মিশুক স্মৃতিপর্ষদ আয়োজিত কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে তারেক ও মিশুক নির্মিত চলচ্চিত্র ও তথ্য চিত্রগুলো তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রদর্শন করা হয়।
তারেক মাসুদের কাজের সঙ্গী ও সহধর্মিণী ক্যাথরিন মাসুদ অনুষ্ঠানের শুরুতেই পর্ষদের পক্ষ থেকে গত ২ বছরে তারেকের অসমাপ্ত কাজের বাস্তবায়নের কিছু চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি। তার প্রকাশিত লেখা নিয়ে একটি এবং তার জীবন ও স্বপ্ন নিয়ে আরো একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তাদের মৃত্যুর ২ বছর হয়েছে। এ বছরও তাদেরকে স্মরণ করতে অনেক লোক জড়ো হয়েছেন। মানুষ তাদের ভালবাসে। তাদের ভালবাসা প্রকাশ করতে হলে তাদের কাজকে এগিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে এই দায়িত্ব পালন করার তিনি আহ্বান জানান। মানবাধিকার কর্মী খুশি কবীর বলেন, তারা দেশের জন্য অনেক কিছু করার ক্ষমতা রাখতেন । যতদিন যাবে তত বেশি তাদের শূন্যতা আমরা উপলব্ধি করবো।
চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম বলেন, গতানুগতিকতার বাইরে এসে তারেক মাসুদ, তানভীর মোকাম্মেল এবং আমি চলচ্চিত্র নিয়ে কিছু করতে চেয়েছিলাম। প্রথম আমরা স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দিয়ে শুরু করি। তারপর তারেক প্রথম সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে মূল ধারার চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করে। তারেকের কাজ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের জন্য অনেক জরুরি ছিল। তার মুক্তির গান যখন মুক্তি পায় তখন মানুষ ইতিহাস বিকৃতির অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়া প্রেক্ষাগৃহ টিকিয়ে রাখতেও তারেকের চেষ্টা ছিল।
অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী বলেন, ২ বছরেও তাদের সড়ক দুর্ঘটনার বিচার হয়নি। আগামী বছর তাদের মৃত্যুবার্ষিকীর আগেই তিনি রাষ্ট্রকে দোষীদের শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি ক্যাথরিনের সকল কাজের সঙ্গী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে তারেক মাসুদের সহকর্মী তরুণ নির্মাতা প্রসূন ও কামাল আহমেদ সায়মন বক্তব্য রাখেন।
