গাইবে না যে দেহঘড়ি...

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৩, ২০:৪৬
মোস্তফা জামান আব্বাসী :আমাদের দশেরে অন্যতম সেরা শিল্পী ছিলেন আব্দুর রহমান বয়াতী। তার গানের নিজস্ব একটা স্টাইল ছিল। দেশে-বিদেশে তার চাহিদা ছিল অনেক। বাউল গানেও আমরা অনেক ফালতু লোক দেখি। কিন্তু আব্দুর রহমান ছিলেন সত্যিকারের শিল্পী। তার গানের অরিজিন ছিল ধার করা না। তার গানের কোনো ভিডিও আছে কিনা আমি জানি না, তবে কেউ যদি করে থাকেন তবে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য সেটি হবে এক অনন্য দলিল। তার গানের অডিও ভিডিও সংরক্ষণ করা না হয়ে থাকলে সেটি খুবই দুঃখজনক। তার মৃত্যুর পর তার মতো করে তো কেউ গান গাইতে পারবে না। নিজস্ব যে ভঙ্গিতে তিনি গাইতেন, সেভাবে গাওয়া তো কারো পক্ষে সম্ভব না। ফকির আলমগীর :তার সঙ্গে আমার সর্বশেষ দেখা হয় মাসখানেক আগে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে। এরপর আর দেখা হয়নি, গতকাল তো তিনি চলেই গেলেন। আজ সকাল ১১টা থেকে শহীদ মিনারে রাখা হবে তাকে। তার সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় বিটিভির যুগপূর্তির অনুষ্ঠানে। এটি প্রায় সত্তর দশকের সময়। তখন মুস্তফা মনোয়ার ছিলেন বিটিভির জিএম। বিটিভি ছাড়া তো অন্য কোনো চ্যানেলও ছিল না। ‘মন আমার দেহঘড়ি’ গানটি তখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। সেই মুস্তফা মনোয়ার একদিন আমাকে ডেকে বললেন, পিলু মমতাজকে সঙ্গে নিয়ে আব্দুর রহমান বয়াতীর সন্ধান করার জন্য। আমরা সন্ধানে লেগে যাই। মুস্তফা মনোয়ার চেয়েছিলেন ‘মন আমার দেহঘড়ি’ গানটি যুগপূর্তির বিশেষ আয়োজনে আমরা তিনজনই একটু পপ ধারা ও বয়াতী সাহেবের নিজস্ব স্টাইলের মিশ্রণে গাওয়া হবে। দুইদিন রিহার্সাল করে আমরা গানটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করি। ফোক ও মর্ডান ধাঁচের সংমিশ্রণ ঘটেছিল গানটিতে। যদি বিটিভির আর্কাইভ খুঁজে বের করা যায় তাহলে হয়তো সেই ফুটেজটি পাওয়া যেতে পারে। আজকের দিনে এই ‘একখান চাবি মাইরা দিছে ছাইড়া’ গানটি আমার অনেক অনেক বেশি মনে পড়ছে। গতকাল তো বয়াতী সাহেব গেলেন, বছর দেড়েক আগে পিলু মমতাজও চলে গেলেন। কুদ্দুস বয়াতী :আব্দুর রহমান বয়াতীর মৃত্যুতে আমি আসলে কী বলব ভেবে পাচ্ছি না। যে নিদারুণ অভাব অনটনের মধ্যে আজ তার জীবনাবসান হলো, সেটি যেন আর কারো না হয়। দেশের লোকসংগীতে তার অবদানের মূল্যায়ন হয়নি। দেশে কয় জন মানুষ জন্ম নিয়েছে রহমান বয়াতীর মতো। আগামীতে কখনও তার মতো মানুষ কী খুঁজে পাওয়া যাবে? জীবনের পুরোটা সময় নানান ধরনের গান গেয়ে যিনি এ দেশের সংগীতকে এত সমৃদ্ধ করেছেন, তার পাওনা পরিশোধ করার মতো না। কিন্তু বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রাপ্য সুবিধাও পায়নি আব্দুর রহমান বয়াতী। সরকারসহ বড় মানুষদের কাছে আমার আহ্বান আব্দুর রহমান বয়াতীর মতো শিল্পীদের আমরা যেন এভাবে আর যেতে না দিই। তাদের জন্য কিছু করা উচতি।