কন্ডিশনকে দুষলেন ম্যাকিন্স

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৩, ২১:১৮
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ইংল্যান্ড সফর ‘আমাদের ছেলেরা অনেকদিন হলো খেলার মধ্যেই ছিল না। এখানে ইনডোরে আর ফ্লাট উইকেটে অনুশীলন হয়েছে। এই অনুশীলনের ভরসায় ইংল্যান্ডের ওই সিমিং কন্ডিশনে ভালো করা খুব কঠিন। ’ গতকাল নটিংহ্যামে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান যখন অনূর্ধ্ব-১৯ ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে শিরোপার জন্য লড়ছে; টুর্নামেন্টের তৃতীয় দল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়রা সেই সময়েই ঢাকায় পৌঁছে যার যার বাড়ির পথ ধরলেন! বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচের পর স্বাগতিক ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের শুরু করেছিল বাংলাদেশের যুব দল। এটাকে ‘উড়ন্ত সূচনা’ই বলে ফেলা যায়। কিন্তু এরপর একটানা চারটি ম্যাচ হেরে ওই জয়ের স্মৃতি ভুলে গিয়ে ইংল্যান্ড সফরকে এক তিক্ত অভিজ্ঞতায় পরিণত করলো তারা নিজেদের জন্য। আর সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই কাল দেশে ফিরে এলো রিচার্ড ম্যাকিন্সের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। বিমানবন্দরে পৌঁছে বাংলাদেশের এক সময়ের তরুণ ক্রিকেটার তৈরির কারিগর ম্যাকিন্স ইংল্যান্ডে টানা এই পরাজয়ের কারণ হিসেবে অনেকগুলো যুক্তি দাঁড় করালেন—ইংলিশ কন্ডিশন, নিজেদের অনুশীলনের ঘাটতি, ইনজুরি, শৃঙ্খলার অভাব। তবে এসব যুক্তি দেয়ার পরও এই যুব দলটির ভবিষ্যত্ নিয়ে আশাবাদী ম্যাকিন্স। আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেই এই দলের কাছ থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্স আশা করছেন এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ। রিচার্ড ম্যাকিন্স বলছেন, এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ যুব দলের খারাপ করার মূল কারণ অনুশীলনের অভাব ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারা, ‘আমাদের ছেলেরা অনেকদিন হলো খেলার মধ্যেই ছিল না। এখানে ইনডোরে আর ফ্লাট উইকেটে অনুশীলন হয়েছে। এই অনুশীলনের ভরসায় ইংল্যান্ডের ওই সিমিং কন্ডিশনে ভালো করা খুব কঠিন। তারপরও আমাদের বোলাররা ভালো করেছে। কিন্তু তাদের সামনে লড়াই করার মতো যথেষ্ট পুঁজি ব্যাটসম্যানরা প্রায়ই রাখতে পারেনি।’ বাংলাদেশ যুব দল যে এই সফরে খারাপ করেছে; তাতে সন্দেহ নেই। তারপরও ব্যাট হাতে মোসাদ্দেক হোসেন, সাদমান ইসলাম ও বল হাতে রিফাত প্রধান ব্যক্তিগতভাবে অন্তত আলো ছড়িয়ে এসেছেন। রিফাতের কথা আলাদাভাবেই বললেন কোচ ম্যাকিন্স। তবে রিফাত নিজে মনে করেন না তিনি খুব বাড়তি কিছু করতে পেরেছেন। ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট নেয়া রিফাত বরং মনে করেন বাকি পেসাররা সবাই সুস্থ থাকলে বাংলাদেশ ভালো ফলাফল নিয়েই ফিরতে পারবো, ‘আমি চেষ্টা করেছি ভালো করতে। তবে আমাদের আরও ভালো কয়েক জন পেসার ইনজুরিতে পড়লো। তা না হলে আমরা হয়তো আরও কিছু ম্যাচ জিততে পারতাম।’ রিফাতের মতোই ধারাবাহিকভাবে সফরে উজ্জ্বল ছিলেন ৬ ম্যাচে ১৫৪ রান করা সাদমান। টুর্নামেন্টে দেশের একমাত্র সেঞ্চুরি করে আলো ছড়িয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেনও। আর এসব ইতিবাচক ব্যাপার নিয়েই এবার সামনের দিকে তাকাতে চান ম্যাকিন্স, ‘ওরা এখন ১০-১২ দিনের ছুটিতে যাবে। তারপর এসে আমরা আবার কাজ শুরু করবো। আশাকরি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য আমরা নিজেদের ভালোমতো প্রস্তুত করতে পারবো।’