ইংল্যান্ড কী পারবে ইতিহাস গড়তে?

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫৭
ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আজ ওভালে শেষ অ্যাশেজ টেস্টে অষ্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। কারণ ১৮৮২ সালে শুরু হওয়া এ্যাশেজের ইতিহাসে ইংল্যান্ড এর আগে কখনোই ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জিততে পারেনি। যদিও ১৯৫০ সালের পর এবারই প্রথমবারের মতো তিন টেস্ট জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এই টুর্নামেন্টের ১৯১১-১২ সেশনে অষ্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ড তাদেরকে ৪-১ ব্যবধানে পরাজিত করে। আর ১৯৭৮-৭৯ সেশনে তাদের জয়টি আসে ৫-১ ব্যবধানে। তবে তিনটির বেশী জয় নিয়ে এবং কোন ম্যাচ না হেরে সিরিজ জেতা হয়নি তাদের। আর সেই অ্যালিস্টার কুকের দলের সামনে এবার বিরল সেই সুযোগ। আর তাই অস্ট্রেলিয়াকে এমন বড় ব্যবধানে হারানোর সুবর্ণ সুযোগটা কোনমতেই হাতছাড়া করতে চাইছে না স্বাগতিকরা। ইংলিশ ব্যাটসম্যান জোনাথন ট্রটের ভাবনায়ও তাই জয় ছাড়া অন্য কিছু স্থান পেল না, ‘আমি মনে করি শেষ ম্যাচে হেরে স্টেজে উঠলে শিরোপার আনন্দ অনেকটাই মলিন হয়ে যাবে। শেষ ম্যাচে যদি তারা জেতে তাহলে সেটা হবে আমাদের বদান্যতার শামিল।’ কয়েক মাসের ব্যবধানে অষ্ট্রেলিয়ার মাটিতে শুরু হতে চলা টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় অধ্যায়ে অষ্ট্রেলিয়াও যে প্রতিশোধ নিতে চাইবে সেকথাও স্মরণ করিয়ে দিলেন এই মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান, ‘এরপর তাদের সাথে আমাদের আরো পাঁচটি ম্যাচ আছে। আমরা তাদেরকে সুযোগ দিতে চাই না। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা যদি তাদেরকে কোনো রকম ছাড় দিই, তাহলে তারা এটাকে সুযোগ হিসেবে নেবে। শেষ ম্যাচে জিতে দেশে ফিরলে তাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যাবে।’ এদিকে শেষ টেস্টে পিঠের ইনজুরিতে আক্রান্ত পেসার টিম ব্রেসনানকে ছাড়াই মাঠে নামতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে। ব্রেসনানের পরিবর্তে দলভুক্ত হচ্ছেন পেসার ক্রিস ট্রেমলেট। অন্যদিকে পুরো সিরিজের মতো এই টেস্টেও অজি কোচ ড্যারেন লেম্যানের মূল দুশ্চিন্তা হয়ে আছে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ফর্মহীনতা। মাইকেল ক্লার্ক, স্টিভেন স্মিথ এবং ওপেনার রজার্স ছাড়া দলের হয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি আর কেউই। তিন টেস্টে মাত্র ১৯ গড়ে রান করা উসমান খাজার একাদশে থাকাটা অনেকটাই অনিশ্চিত। হুমকির মুখে ব্র্যাড হাডিনের জায়গাও। তার জায়গায় দলে আসতে পারেন রিজার্ভ উইকেটরক্ষক ম্যাথু ওয়েড। সর্বশেষ আটটি টেস্টের সাতটিতেই হারা সফরকারীরা অবশ্য একেবারে শূন্য হাতে দেশে না ফিরতে বদ্ধপরিকর। অন্তত মুখে তেমনটাই বললেন হাডিন। প্রাপ্ত সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে পারলে জেতাটা মোটেই কঠিন হবে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘শেষ টেস্টে জেতার ব্যাপারে আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী। এর আগে আমরা জেতার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু সব থেকে কার্যকর মুহূর্তে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের সামর্থ্যের প্রমাণ আমরা অতীতে রেখেছি। তবে এটাও সত্য যে, দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারছি না। ডারবান টেস্টে আমরা যেভাবে হেরেছি তা দুঃখজনক।’ বাংলাদেশ সময় বিকাল চারটায় শুরু হতে যাওয়া টেস্টটা গুরুত্বপূর্ণ ক্লার্কের জন্যও। কারণ, এর আগে আর কোন অজি অধিনায়ককেই যে অ্যাশেজে ৪-০ ব্যবধানে হারতে হয়নি।