লুক রাইটকে বলা হয় অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের উত্তরসূরী। কিন্তু ফ্লিনটফের মতো পেস বোলিং নয়; তাকে দর্শকপ্রিয় করে তুলেছে তার বড় বড় ছক্কা মারার ক্ষমতা। সেই ক্ষমতাটা যে কতো ভয়ানক হতে পারে, তা গতকাল ব্রিস্টলে টের পেয়েছেন সোহাগ গাজী, রুবেল হোসেনরা। ‘নতুন ফ্লিনটফ’ বলে পরিচিত লুক রাইট গতকাল ৬৮ বলে ১৪৩ রানের দানবীয় এক ইনিংস খেলে কার্যত প্রথম ইনিংসেই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে।
রাইটের এই ইনিংসের সঙ্গে তরুণ গ্রে ব্যালান্সের তুলনামূলক ধীরগতির সেঞ্চুরিতে বড় রানের নিচেই চাপা পড়েছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ৩৫৩ রানের পাহাড় গড়েছে ইংল্যান্ড লায়ন্স।
জবাবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২ ওভারে ৮ রান তুলতেই ১ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য হাতে বয়েড র্যাংকিনের শিকার হয়ে ফিরেছেন এনামুল হক বিজয়।
অথচ বল হাতে ভালোই শুরু করেছিল বাংলাদেশি বোলাররা। টসে জিতে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলকে ব্যাট করতে পাঠিয়ে ইনিংস শুরু করেছিলেন স্পিনার সোহাগ গাজী। তিনি রানটা চেপে রেখেছিলেন। পরে দুই পেসার আল আমিন ও রবিউল এসে ৫৯ রানে ইংল্যান্ডের ২ উইকেট তুলে নেন। তৃতীয় উইকেটে জেমস টেলর ও ব্যালান্স ৫৩ রান যোগ করেন; সেটাও ভয়ানক কিছু ছিল না। কারণ এ সময়ও চারের আশপাশে ছিল ইংল্যান্ড লায়ন্সের রানরেট।
তবে এরপরই ব্যালান্সের সঙ্গে রীতিমতো ঝড় তোলা ২০.১ ওভারের এক জুটি করেন লুক রাইট। এই জুটিতে ইংলিশদের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ২২৫ রান; ওভারপ্রতি রান ওঠে ১১.১৫ করে!
বিস্ময়কর এই ঝড়টা আরও ভালো বুঝতে পারবেন, আরেকটা তথ্যে। শেষ ১৫ ওভারে ইংল্যান্ড ১৩.২০ করে ওভারপ্রতি মোট ১৯৮ রান তুলেছে!
একেবারে ইনিংসের ৪৯তম ওভারে ৮৯ বলে ১০টি চার ও ৪টি ছয়ে সাজানো ১১৫ রানের ইনিংস খেলা ব্যালান্স আউট হয়ে যান। ব্যালান্সকে ফিরিয়ে ৬৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ‘সেরা’ বোলার আল আমিন।
আর শেষ পর্যন্ত ৬৮ বলে ১১টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো ১৪৩ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন রাইট।
