যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস জারির জন্য আবেদন করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া ও রায়কে পক্ষপাতমূলক বলে মন্তব্য করে সংস্থাটি আদালত অবমাননা করেছে দাবি করে আবেদনটি গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। এ আবেদনের উপর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শুনানি হতে পারে।
গত শুক্রবার মানবাধিকার সংস্থাটি ‘বাংলাদেশ:আযম কনভিকশন বেইজড অন ফ্লড প্রসিডিংস’ শিরোনামের এক বিবৃতি প্রকাশ করে। ঐ বিবৃতিতে জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের বিচার প্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নয় বলে দাবি করে এইচআরডব্লিউ। একইসঙ্গে গোলাম আযমের বিচারের পাঁচ ত্রুটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা।
কৌঁসুলি তাপস কান্তি বাউল বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়া ও রায় নিয়ে করা এ মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালের সুনামহানী ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এছাড়া বাকি যেসব ত্রুটির কথা বলা হয়েছে তাও ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমরা এইচআরডব্লিউ’র বোর্ড অব ডিরেক্টরস, এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস ও অ্যাসোসিয়েট স্টর্ম টিভের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস জারির আবেদন করেছি। এছাড়া আবেদনে ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১(৪) ধারায় দোষীদের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড প্রদান, সংশ্লিষ্ট দেশকে অবহিত করা ও বিবৃতিটি আগামীতে যাতে প্রকাশ ও প্রদর্শিত না হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।’
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অপর কৌঁসুলি ড. তুরিন আফরোজ বলেন, গোলাম আযমের মামলা নিয়ে এইচআরডব্লিউ’র মন্তব্য ট্রাইব্যুনালের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। এই ট্রাইব্যুনালে গোলাম আযমের মামলাসহ অন্য কোনো মামলায় এইচআরডব্লিউ’র কোনো প্রতিনিধি পর্যবেক্ষণে আসেন নি। এটি এমন একটি সংস্থা যাদের জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কোনো জবাবদিহিতা নেই। তাদের তহবিল কীভাবে আসে সে বিষয়টিও তারা প্রকাশ করে না। তাদের পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের অসংখ্য প্রমাণ আছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে তারা সমালোচিত হয়েছে। তহবিল দাতাদের স্বার্থে তারা রিপোর্ট প্রকাশ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের মার্চে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ১৫ জুলাই এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
