শিক্ষা ও শিক্ষক স্বার্থবিরোধী প্রস্তাবিত আইন বাতিল করুন

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২২:১৩
শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষা আইনের খসড়া প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। বক্তারা বলেন, শিক্ষামন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন শিক্ষা ও শিক্ষক স্বার্থবিরোধী। এ আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আইনের খসড়ায় এমপিও বাতিলের যেসব শর্তারোপ করা হয়েছে, সেগুলো আইনের আওতায় আনা হলে অপব্যবহার হতে পারে। এসব শর্তের আড়ালে লাখ লাখ শিক্ষক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হবেন। তাতে অনেক শিক্ষক চাকরিচ্যুতি হবেন। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘শিক্ষা ও শিক্ষক স্বার্থবিরোধী শিক্ষা আইনের খসড়া অগ্রহণযোগ্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ। শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সদরুল আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর বোরহানউদ্দিন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, বাংলাদেশ অধ্যক্ষ সমিতির মহাসচিব ড.মাহবুবুর রহমান মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষাকে দলবাজি বা রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনে এই আইন তাড়াহুড়ায় পাস করার একটা ইচ্ছা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা অশুভ ইচ্ছা। এটা জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হওয়া উচি নয়। দীর্ঘকাল সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। কারণ এটার সাথে অনেক বিষয় সম্পর্কযুক্ত। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ করব, জাতির ভাবনা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে। সদরুল আমিন বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করা যাবে নতুবা আইন করে প্রাইভেট, কোচিং বন্ধ করা যাবে না। তিনি শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। অধ্যাপক বোরহানউদ্দিন খান বলেন, এতো অল্প সময়ে এটা মতামতের জন্য দেয়া ঠিক হয়নি। অন্তত দেড় মাস সময় দেয়া প্রয়োজন ছিল। নতুন সরকারের ওপর এটা খাপছাড়া সিদ্ধান্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন পদ্ধতি সহজ করতে হবে উল্লেখ করে সেলিম ভুঁইয়া বলেন, নিবন্ধনের নামে উেকাচ বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, লাগামহীন পাগলা ঘোড়ার ন্যায় দ্রব্যমূল্যের অস্থির বাজারে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত বেতনে সংসার চালাতে পারছেন না। ৫শ’ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা যোগাতে ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য বাড়তি পরিশ্রম করেন। ইচ্ছা করে কেউ প্রাইভেট পড়ান না। নিতান্ত বাঁচার তাগিদে প্রাইভেট পড়ান। তিনি শিক্ষা আইনের খসড়া বাতিলের দাবি জানান।