কুষ্টিয়া

সিনেমা দেখে গান মুখস্থ করতেন ইয়াকুব

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৩৭
শিশুকাল থেকে গানের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ কণ্ঠশিল্পী ইয়াকুবের। যে কারণে সিনেমা হলে গিয়ে বিভিন্ন সিনেমা দেখে গান মুখস্ত করতেন তিনি। কোনো বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োজন হয় না তার। কাঠের দেয়াল, টেবিল চেয়ারে দু’হাত চাপড়ে তবলার মতো বাজনা তুলে তিনি সুমধুর কণ্ঠে গান পরিবেশন করেন। ভূমিহীন হতদরিদ্র ইয়াকুব জীবিকা নির্বাহের জন্য পোড়াদহ-রাজবাড়ি রুটের সাটল, নক্সিকাঁথা ও মধুমতি ট্রেনের যাত্রীদের প্রতিনিয়ত গান শুনিয়ে থাকে। চল্লিশ বছরের অধিক সময় ধরে তিনি গান পরিবেশন করে সংসার পরিচালনা করেন। অনেকে তার গান শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে অর্থদান করে থাকেন। অনেক যাত্রী স্মৃতিচারণ করে বলে থাকেন ছোটকালে বাবা-মায়ের সঙ্গে ট্রেনে যাওয়ার সময় কণ্ঠশিল্পী ইয়াকুবের গান শুনেছি। দীর্ঘদিন পরেও তার কণ্ঠ ও চেহারা একই রকম আছে। তারা বলেন, ‘ট্রেনে উঠে ইয়াকুবের গান শুনলে মায়ের হাত ধরে ট্রেনযোগে ভ্রমণের কথা মনে পড়ে যায়।’ কণ্ঠশিল্পী ইয়াকুব কুষ্টিয়া রেল স্টেশনের সামনে গড়াই নদীর বাঁধে গড়ে ওঠা একটি সরকারি আবাসনে স্ত্রী আমেনা ও বিধাব মেয়ে ডালিমকে নিয়ে বসবাস করেন। বর্তমানে আশি বছরের উর্ধ্বে তার বয়স। এখনও একের পর এক বাংলা, হিন্দ ও উর্দু গান পরিবেশন করে থাকেন তিনি। স্বশিক্ষিত ইয়াকুব একসময় কুষ্টিয়া মোহিনী মিলে চাকরি করতেন। কণ্ঠশিল্পী ইয়াকুব বলেন, ‘একসময় অনেক বড় শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন ছিল। দারিদ্রতার কষাঘাত আর যথাযথ সুযোগ না পাওয়ায় আগামী প্রজন্মের জন্য আমার কণ্ঠে গাওয়া গান রেখে যেতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি সহযোগিতা করে আমার গাওয়া গান রেকর্ডিং করে রাখতেন তাহলেই স্বপ্ন পূরণ হতো।’