হারিয়ে যাওয়া ওরা তিনজন

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৩, ২২:০২
মুখে হাসি থাকলেও চোখে রাজ্যের বিষণ্নতা। কিছু কথা মুখে বলছে, কিছু আবার ইথারে হারিয়ে যাচ্ছে। আছে খেলার লাল ঘোড়া, দোলনা আর ছোট রিক্সাগাড়ি; কিন্তু তার পরও কি যেন খুঁজে ফিরছে ওরা। ওরা হারিয়ে যাওয়া তিন শিশু। আছে তেজগাঁও ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে। শিরিনা (৪), সোহাগ (৮) ও নাম না জানা দুই বছরের মেয়ে শিশু। ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে তার নাম দেয়া হয়েছে ‘মিম’। খাচ্ছে, খেলছে, ঘুমাচ্ছে তারপরও কিসের অভাবে যেন কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে দুই বছরের মিম। শিশুটি ‘মা’-‘বাবা’ ছাড়া কিছুই বলতে শেখেনি এখনো। শ্যামলা বর্ণের গোলাকৃতি মুখে মায়াবি দুটি চোখ। গত ২১ জুলাই মিমকে পাওয়া যায় গুলিস্তানের গোলাপ শাহ মাজারের কাছ থেকে। চার বছরের শিরিনা প্রায় সব কথাই বলতে পারে। তবে আঞ্চলিক ভাষা আর অগোছালো ভাবে বলার কারণে তার কথা খুব বেশি বোঝা যায় না। শিরিনা জানায়, তার বাবার নাম আব্দুল করিম, তিনি মারা গেছেন। আর মায়ের নাম ফরিদা। বাড়ি বরিশালের ভোলায়। শিরিনার ভাই এক্সিডেন্ট করেছে, তাই মা’সহ শিরিনা এসেছিল হাসপাতালে ভাইকে দেখতে। ৫ আগস্ট মা শিরিনাকে রেখে খাবার কিনতে গেলে, শিরিনা হারিয়ে যায়। এরপর তাকে কোতোয়ালী থানায় আনা হয়। সেখান থেকে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে আনা হয়। তবে গতকাল শিরিনাকে আজিমপুরে ‘ছোটমনি নিবাসে’ দেওয়া হয়েছে। মো. শরিফুল হাসান সোহান। সে লেখাপড়া করতো দ্বিতীয় শ্রেণিতে। বয়স আনুমানিক আট। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায়। বাবার নাম শিকদার আর মায়ের নাম লায়লা, তার একটি ভাই আছে। সোহাগের ভাষায় সে একটি রেল স্টেশন থেকে ১৭ আগস্ট হারিয়ে যায়। এর পর চোখ বেঁধে তাকে অপরিচিত একলোক কোথায় নিয়ে যায় তা সে বলতে পারে না। সেখান থেকে সোহাগ পালিয়ে আসে।