দ্বীন প্রচারে মুমিনের দায়িত্ব

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৩৬
তাবলীগ শব্দের আভিধানিক অর্থ প্রচার করা, পৌঁছে দেয়া। গুটিকয়েক লোক যারা ইসলামের দাওয়াত দেয়ার উদ্দেশ্যে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বাণী প্রচার করেন তাদের এই দলবদ্ধ কার্যক্রমকে ইসলামী পরিভাষায় তাবলীগ বলে। আর যারা আল্লাহর দ্বীন প্রচার করেন তাদেরকে মুবাল্লিগ বা প্রচারকারী বলে। হযরত মুহাম্মদ (স.) দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত্ ইসলাম প্রচার করেছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব অর্পিত হয় উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর। রসূল (স.) বলেছেন-“(আমার) একটি কথা হলেও তা আমার পক্ষ হতে প্রচার করো” (বুখারী শরীফ)। মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত ইসলামের দাওয়াত দেয়া। ইসলামের দাওয়াতের মূল বিষয় বস্তু হলো সত্ কাজের আদেশ এবং অসত্ কাজের নিষেধ। আল্লাহ তায়ালা বলেন—“তোমরা শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের (মঙ্গলের) জন্য তোমাদেরকে বাহির করা হয়েছে। তোমরা সত্ কাজে আদেশ করতে থাকো, অসত্ কাজ হতে নিষেধ করতে থাকো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো” (সূরা আলে ইমরান:১১০)। আল্লাহ তা’য়ালা তাবলীগের কাজটি ব্যক্তিগতভাবে সমষ্টিগতভাবে সবার ওপর ফরয করে দিয়েছেন। সমাজে সকল প্রকার অন্যায়, অবিচার, পাপাচার, দুর্নীতি ইত্যাদি অপরাধ নির্মূলে, মানুষকে শান্তির দিকে, কল্যাণের দিকে আহবান করার জন্য তাবলীগ অর্থাত্ ইসলামী দাওয়াতের ভূমিকা অপরিসীম। পৃথিবীর প্রথম মানব ও নবী হযরত আদম (আ) থেকে শুরু করে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী রসূল দাওয়াতী কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সুতরাং এ দায়িত্বকে অবহেলা করলে চলবে না। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে মুক্তি একমাত্র ইসলামই দিতে পারে। আর এ সম্পর্কে যাদের নিকট বাণী পৌঁছেনি তাদের নিকট পৌঁছানোর অন্যতম উপায় হল তাবলীগ। বর্তমান সমাজে শিরক, কুফর, বিদআত কাজসমূহ বহুল প্রচলিত হয়েছে, যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাবলীগের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। আল্লাহর দ্বীন ইসলামকে তাবলীগের মাধ্যমে দুনিয়ায় সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে, তবেই মানুষ সুপথগামী হবে এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে রেহাই পাবে। এ মর্মে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন—“হে ঈমানদারগণ-তোমরা তোমাদের নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার পরিজনদের জাহান্নামের শাস্তি হতে বাচাও” (সূরা আ-তাহরীম:৬)। ইসলামী দাওয়াতের বাস্তবায়ন তাড়াতাড়ি করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এই দাওয়াতী কাজ চলতে থাকবে। আর এ দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করবে মুসলিম উম্মাহ। এ কাজ থেকে বিরত থাকার সুযোগ নেই মুসলিম উম্মাহর। এ দায়িত্বকে অবহেলা করলে ক্ষতি আর অন্য কারো হবে না, ক্ষতি হবে আমাদেরই। কেননা নবীজী (স) সকল জাতি, গোষ্ঠীর কাছে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। আর যেহেতু তাঁর ইন্তেকালের পর এই গুরুদায়িত্ব আমাদের ওপর অব্যাহত রয়েছে, সেহেতু এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে আমরা পরকালে আল্লাহর নিকট কোন জবাব দিতে পারবো না। নিজেরাই নিজেদের ক্ষতির কারণ হবো। সুতরাং মুসলিম উম্মাহ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত এই তাবলীগ, অর্থাত্ দাওয়াতী কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখা। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সেই তাওফিক দান করুন, আমীন।