নারগিস আক্তার। প্রচলিত ঘরানার বাইরের চলচ্চিত্র এবং বিষয়ভিত্তিক সামাজিক আখ্যান দিয়েই মূলত একজন নারী চলচ্চিত্রকার হিসেবে খুব অল্প ক’টি ছবিতেই তিনি আলোচিত হয়েছিলেন। নিজের মেধাগুণেই এবারে সরকারি অনুদানে তৈরি করছেন ড. সেলিম আল দীনের অমর সৃষ্টি ‘যৈবতী কন্যার মন’ চলচ্চিত্রটি। সম্প্রতি এই চলচ্চিত্রের মহরত অনুষ্ঠিত হলো। ছবিটি নিয়ে বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তারিফ সৈয়দ
ড. সেলিম আল দীনের এই কালজয়ী সৃষ্টির চলচ্চিত্র ভার্সন কেমন হবে বলে মনে করেন?
আমি আশাবাদী। কারণ স্যারের এই চিত্রনাট্যটা এতটাই শক্তিশালী যে এটা স্ক্রিপ্টের জোরেই অনেকখানি এগিয়ে। পাশাপাশি এক ধরনের চাপও থাকে সেই মানের প্রোডাকশন দেওয়ার। এ কারণেই আমি প্রচলিত হিট তারকাকে না রেখে মূল দুটি চরিত্রে একেবারে নতুন দুটি মেয়েকে রেখেছি। নুসরাত ও সাকী নামের দুটি নতুন মেয়ে এই চলচ্চিত্রে কাজ করবে।
তাহলে আপনি কি বলতে চাইছেন যে, প্রতিষ্ঠিত তারকাদের নিয়ে এই চলচ্চিত্র তৈরি সম্ভব না?
না সেটা নয়। কিন্তু দেখুন এখন যে ক’জন তথাকথিত প্রসিদ্ধ নায়িকা আছেন, তাদেরকে যদি আমি ১৮ বছরের তরুণী হিসেবে পর্দায় দেখাতে চাই। তো এর চেয়ে হাস্যকর তো আর কিছু হবে না। আর আমি কখনোই স্টার-নির্ভর ডিরেক্টর ছিলাম না।
এটা আপনার ৯ম চলচ্চিত্র। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি একটি চ্যানেলকেও সাথে রেখেছেন। এর কারণ কী?
দেখুন অনুদান বলতে আমি পাই ৩৫ লাখ টাকা। এর ভেতরের বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ হিসেবে এফডিসি ১০ লাখ টাকা কেটে রাখে। আপনিই বলুন ২৫ লাখ টাকা দিয়ে কীভাবে একটি ভালো ছবি নির্মাণ সম্ভব? এ কারণেই একটি চ্যানেলকে সাথে করেই এগোনো, আর প্রচারের এই সময়ে চ্যানেলের ক্যাম্পেইনও খুবই জরুরি।
এফডিসির কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছেন। সেক্ষেত্রেও তো করুণ অবস্থা। এই জীর্ন ইক্যুয়েপমেন্টে আপনি কি ভালো প্রোডাকশন দিতে পারবেন বলে মনে করছেন?
আমি ডিজিটালভাবেই শুট করব। আর এখানে একটা কমন বিভ্রান্তি আছে, তা হলো, চলচ্চিত্রের কাজের মুন্সিয়ানা থাকে তার ক্যামেরা কীভাবে অপারেট হচ্ছে সেইভাবে। এখন দামি ক্যামেরা ভাড়া করে আমি দক্ষতার সাথে অপারেট করলাম না, তাতে কোনো লাভ হবে না। সেটা এখনকার কিছু ডিজিটাল ছবির মতোই হয়ে যাবে। আমি সেটা হতে দেব না। আর এফডিসির করুণ অভিজ্ঞতার কথা আর কি বলব! আমার এর আগের ছবিতে এক চলচ্চিত্রেই ডাবিংয়ের ২২ শিফটের জায়গায় লেগেছে ৪২ শিফট। এরপরও আমি এফডিসি-নির্ভর চলচ্চিত্র করে এর উন্নয়ন প্রত্যাশা করছি। মনে প্রাণে চাই, এফডিসি আবারও তার ছন্দে ফিরে আসুক।
কিন্তু আপনি তো এর আগেও ছোট পর্দার তারকাদের নিয়ে চলচ্চিত্র করেছেন। সেক্ষেত্রে গড় হিসেবে তাদের সাফল্য কম। এই ধরনের এক্সপেরিমেন্টে কি এফডিসি তার আগের রূপে আসতে পারবে?
এটা ঠিক যে, টিভি পর্দার তারকাদের এক ধরনের বাড়তি লোভ কাজ করে। তারা চলচ্চিত্রের প্রতি ডেডিকেট হয়ে কাজ করতে পারে না। আমার আগের ছবিতেই একজন টিভি অভিনেত্রীকে নিয়েছিলাম, পরে তার খামখেয়ালরি কারণে স্ক্রিপ্ট পরিবর্তন করতে হয়েছে। এ কারণেই এবার একেবারেই ফ্রেশ লুক নিয়েই চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুটিং শুরু করব। আশা করছি, এটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম চলচ্চিত্র হিসেবে দর্শকদের উপহার দিতে পারব।
