ঢাকাবাসীর পানির চাহিদা পূরণের জন্য মুন্সীগঞ্জে নির্মিত হচ্ছে পানি শোধনাগার। এর মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে পানি এনে শোধন শেষে ঢাকায় সরবরাহ করা হবে।
চীনের আর্থিক সহযোগিতায় এ শোধনাগার স্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র আরো জানায়, শোধনাগারটি স্থাপন হলে প্রতিদিন ঢাকায় ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ঢাকার ২৩০ কোটি লিটার পানির চাহিদা পূরণের জন্য কয়েকটি প্রকল্পের মধ্যে মুন্সীগঞ্জের এ প্রকল্পের ঋণচুক্তি অতিসমপ্রতি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ঋণচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব আসিফ উজ্জামান এবং চীন সরকারের পক্ষে এক্সিম ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক লীডেন।
চীনের এক্সিম ব্যাংকের দেয়া ২৯০ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলারের এ চুক্তির মেয়াদ তিন বছর। আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকা ওয়াসা এ শোধনাগার নির্মাণ কাজ শেষ করবে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, এজন্য সরকার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ৮০ দশমিক ৩২ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করেছে। লৌহজংয়ের যশলদিয়ায় ৯ দশমিক ৫০, কান্দিপাড়ায় ৩২ দশমিক ২৬, বিলকালিনীতে ১০ দশমিক ৭৫, উত্তর মেদিনীমণ্ডলে দশমিক ০৮ একর এবং শ্রীনগর উপজেলার কোলাপাড়ায় ২৫ দশমিক ৬১, দামলায় ২ দশমিক ১০, ফুলকচিতে দশমিক ০২ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা। এ শোধনাগারে ওয়াটার কেনেল, ইনটেক পাম্প হাউজ, ওয়াটার ট্রিটম্যান্ট প্লান, পাইপলাইন ও বোস্টার পাম্প স্টেশন নির্মাণে সর্বমোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলার।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বাদল জানান, অধিগ্রহণের জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা খুব শিগগিরই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করবো। তিনি আরো বলেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা শহরের পানি সমস্যা অনেকটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে।
