বিসিবি নির্বাচনে লড়বেন পাপনও

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৯
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন নাজমুল হাসান পাপন এমপি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ৩২টি জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে দীর্ঘ বৈঠক শেষে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির বর্তমান সভাপতি পাপন প্রথমবারের মতো নিজের প্রার্থিতার কথা জানান দিলেন। এর আগে বিসিবি সভাপতি পদে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছেন সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি। সেক্ষেত্রে বর্তমান সভাপতির ঘোষণায় নির্বাচন জমে উঠবে। বিসিবি সভাপতি জানান, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের (ফোরাম) মিথ্যাচারকে তিনি ভয় পান না। তাই ফোরামকে রুখতেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যা মনে হচ্ছে তাতে অবশ্যই আমি নির্বাচন করবো। কিছুদিন আগেও নির্বাচন করার ব্যাপারে আমার তেমন চিন্তা-ভাবনা ছিল না। কিন্তু এখন ওদের কাজকর্ম দেখেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। কারণ ওরা যে মিথ্যাচার আর নোংরামি করছে তাতে অনেকেই ভয় পেয়ে সরে যেত। আর আমিও যদি সরে যাই তাহলে তো তাদেরই জয়জয়কার হবে। তাই সব মিলিয়ে নির্বাচন করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি।’ গতকাল দুপুরে মিরপুরস্থ বিসিবির কনফারেন্স রুমে ৩২টি জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন বোর্ড সভাপতি। চার ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক শেষে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিরা নাজমুল হাসান পাপনের প্রতি সমর্থনের কথা জানান। এ ব্যাপারে চট্টগাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাসিরুদ্দীন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা পাপন ভাইকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। নির্বাচনও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদ জানাচ্ছি। আর একটা মহল যারা বিভিন্ন কথা বলে নির্বাচনে বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’ দীর্ঘ বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হল জানতে চাওয়া হলে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘আজকে আমাদের বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল একটাই। সামনেই বোর্ডের নির্বাচন, এই নির্বাচন নিয়ে তাদের কোন সমস্যা বা কোন পরামর্শ আছে কিনা সেটা জানার জন্যই তাদের সাথে আজকে আমরা বসেছিলাম। কিছুদিন ধরে একটা গ্রুপ আমাদের নামে কিছু মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল। তারা বলে আসছিল যে জেলা প্রশাসকরা নাকি কাউন্সিলরদের নামে সই পর্যন্ত করে ফেলেছেন। কিন্তু আমরা তো এখনো কাউন্সিলরের নামই চাই নাই। ওরা এসব মিথ্যা অভিযোগ আমাদের ওপর ছুঁড়ে দিচ্ছে। তারা এমনও বলছে যে আমাদের এখান থেকে নাকি তাদের ওখানে ফোন দেয়া হচ্ছে। আজকে আমি তাদের বললাম, আপনারা যে নাম দিবেন সেই নামই আসবে। এরপরও যদি কেউ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তাহলে তখন আমি তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করবো। আমরা কোনভাবেই এই নাম পরিবর্তন করবো না, বরং কেউ যদি এমন করতে চেষ্টা করে তাহলে আমরা বাধা দিব। আমি শুধু চাই নির্বাচনটা ভালভাবে হোক।’ এর আগেও একাধিকবার ফোরামের সমালোচনা করা বিসিবি সভাপতি তার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘এদের কাজকর্ম আসলেই সন্দেহজনক; নির্বাচন বানচালের জন্য যা যা করা দরকার তার সবটাই তারা করতে চেষ্টা করবে। কে জিতবে কে হারবে সেটা কোন বড় ব্যাপার না; সব মিলিয়ে আমি চাই একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এজন্য আমার সবার সাহায্য দরকার।’ তিনি আরো বলেন, ‘বৈঠকে আমি তাদের আমাকে সমর্থন দেয়ার জন্য অনুরোধ করিনি। আমি তাদের বলেছি, ক্রিকেটের জন্য যেটা ভাল হবে আপনারা যেটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন সেটাই আপনারা করবেন।’ সুষ্ঠু নির্বাচন চাইছেন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিরাও। আ জ ম নাসির বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরেই এই বিসিবি নির্বাচন নিয়ে একটা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি চলছে। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা (ফোরাম) বোর্ড সভাপতির নামে শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে কথা বলছে। আমরা এসবের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সব খেলাধুলার মধ্যে এই ক্রিকেটের জন্যই বাইরের লোক বাংলাদেশকে চিনে। তাই আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনই কামনা করছি।’ বিসিবির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা ক্রীড়া সমিতির সহ-সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, ‘মূলত ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসা থেকেই এখানে আসা। তাই আমি চাই নির্বাচনটা যাতে সুষ্ঠুভাবে আয়োজিত হোক। আর এর জন্য সব রকম সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত আছি।’ কিছুদিন আগে ফোরামের অস্তিত্ব স্বীকারে অস্বীকৃতি জানানো নাজমুল হাসান পাপনকে কাল তাদেরই একটা অংশ সমর্থন করলো। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি বিসিবির যে গঠনতন্ত্র সেখানে ফোরামের কোন অস্তিত্ব নেই। বিসিবি নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে ক্লাবগুলো নাম পাঠায় আর জেলা ক্যাটাগরি থেকে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে নাম পাঠানো হয়। তাই এখানে ফোরাম কোনভাবেই জড়িত না। এতোদিন ধরে তারা মনে করে আসছিলো বাংলাদেশের সব ক্লাব আর জেলা তাদের হাতের মুঠোয়। এটা আমার মনে হয় ঠিক না! দেখা যাক এবার কি হয়!’ অবশ্য এতকিছুর মধ্যেও নির্বাচন কবে হবে সে ব্যাপারে কোন আভাস দেননি বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।