সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলা হলো না জাতীয় দলের ডিফেন্ডার কেষ্ট কুমার বোসের। তার সাথে বিদায় নিতে হয়েছে আরেক ডিফেন্ডার ইয়ামিন মুন্নাকে। জাতীয় দলে ঢুকলেন মোনায়েম খান রাজু।
ইনজুরি সাফের স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে কেষ্টর। এই তরুণ জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়াড়। তাকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফের গুডবুকে যে ক’জন ফুটবলারের নাম লেখা রয়েছে কেষ্ট তাদেরই একজন। ভাগ্য খারাপ কেষ্টর, শনিবার জাতীয় চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে, আর এমন সময় তাকে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যেতে হলো। জাতীয় দলের সূত্রে জানা গিয়েছিল কেষ্ট ডান পায়ের সিনবোনে আঘাত পেয়েছেন। কিন্তু গতকাল দুপুরে বাফুফে ফুটবল ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কেষ্ট বললেন, ডান পায়ে লেগেছে ঠিকই তবে সিনবোনে নয়, ডান পায়ের হাঁটুর একটু নিচে। ট্রাউজার তুলে দেখালেন। সাদা রংয়ের ক্রেপ ব্যান্ডেজ জড়ানো হাঁটু দেখিয়ে কেষ্ট বললেন, ভেতরে একটা উপশিরায় আঘাত লেগেছে।’ এমআরআই করানোর পর ডাক্তার বলেছে ১০ দিন বিশ্রাম নিতে হবে। কেষ্ট বলছেন, ১০ দিন বিশ্রাম নিলে তো আমি সাফ পাচ্ছি না। ভাগ্যটাই ভালো না আমার। এই অবস্থায় ম্যাচ খেলতে গেলে আমি আরো বিপদে পড়ে যেতে পারি। এই সাফের জন্য এতো পরিশ্রম সেই সাফেই খেলতে পারব না।’ মনটা ভালো নেই কেষ্টর। কুষ্টিয়ার খোসায় গ্রামের বাড়িতে থাকা বাবা পরিমল কুমার বোস এবং মা অপর্ণা রানী বোসের সাথে কথা বলেছেন। তাদের নাকি মন খারাপ হয়ে গেছে ছেলে জাতীয় দলে নেই শুনে। বাফুফে একাদশের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে বিদেশি ফুটবলার কেষ্টর পায়ে মারাত্মক আঘাত করলে তিনি মাঠ ছেড়ে বাইরে আসেন। ডাচ ফিটনেস কোচ ইয়ামালীও কেষ্টকে দেখে জানিয়ে দিয়েছিলেন এটা তার নাগালের বাইরে। বিদেশিদের বিপক্ষে খেলাটা সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এরা মাঠের মধ্যে সব সময় বেপরোয়া হয়ে পা চালিয়ে দেয়। তারই খেসারত দিতে হলো কেষ্টকে।
আরেক ডিফেন্ডার ইয়ামিন মুন্নাকে বাদ দেয়া হয়েছে পারফরম্যান্সের কারণে। স্ট্রাইকার সজিব নামের আরো একজন ছিলেন ক্যাম্পে, তাকে ছেড়ে দিয়েছেন ক্রুইফ। আর গতকালই ডাচ কোচ ক্রুইফ দলে টেনে নিয়েছেন মিডফিল্ডার মোনায়েম খান রাজুকে। সব মিলিয়ে এখন জাতীয় দলের ক্যাম্পে রয়েছেন ২২ ফুটবলার। শনিবার চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে। কতজন থাকবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। ২০ ফুটবলার নিয়ে সাফে যেতে পারে বাংলাদেশ।
