এমআইবি’র সদস্য অডিও প্রযোজক চেনাসুরের হাসান মতিউর রহমান বিনোদন প্রতিদিনের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে বলেন যে, ‘আমরা তাদের সুযোগ দিয়েছিলাম, যাতে তারা র্যাবের হাত থেকে বাঁচতে পারে। আর এটা যদি অন্যায় হয় তবে ১০০ বার ক্ষমা চাইতে রাজি আছি।’ অর্থাত্ তারা নিজেরাই স্বীকার করছে যে তারা এই গর্হিত কাজটি করেছে। এ প্রসঙ্গে কণ্ঠশিল্পী আসিফ বলেন, ‘পেন ড্রাইভ বা মেমোরি কার্ডে গান বিনিময়ের বিষয়টি এখনও আইনসিদ্ধ না। আর সবচেয়ে বড় কথা এখানে শিল্পীদের জানতে হবে যে এই উপায়েও প্রকাশকরা অর্থ আয় করছে।’
তথ্যটি প্রবাদ বাক্যের মতোই প্রচলিত ছিল যে, ঘরের ভেতরেই নাকি চোর ঢুকে আছে অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে। সেটা আবারও প্রকটভাবে প্রমাণিত হলো সম্প্রতি বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে। বিশেষ করে, গত ২৩ আগস্ট চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের এক প্রতিবেদনে সবার মুখোশ উন্মেচিত হয়। এই প্রতিবেদনে বলা হয় সিএমভির শাহেদ আলী পাপ্পু , সিডি চয়েজের সুমন এমদাদ ও লেজার ভিশনের এ কে এম আরিফুর রহমান সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে সারাদেশে অডিও গান ডাউনলোডের মতো অনৈতিক কাজের বৈধতা দিয়ে আসছে। প্রায় কয়েক হাজার অডিও দোকানির সাথে এই অবৈধ বাণিজ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের রিপোর্টে বলা হয়, লেজার ভিশনের এ কে এম আরিফুর রহমান ও সিএমভির শাহেদ আলী পাপ্পু স্বাক্ষর করে ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্ট নামে অবৈধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিটি দোকানিকে অবৈধ ডাউনলোডের লাইসেন্স দিয়ে সারাদেশের অডিও শিল্প থেকে শিল্পীদের ঠকানোর সুকৌশল প্রক্রিয়া বের করেন।
এ প্রসঙ্গে প্রকাশকদের সংগঠন এমআইবির সদস্য অডিও প্রযোজক চেনাসুরের হাসান মতিউর রহমান বিনোদন প্রতিদিনের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে বলেন যে, ‘আমরা তাদের সুযোগ দিয়েছি যাতে তারা র্যাবের হাত থেকে বাঁচতে পারে। আর এটা যদি অন্যায় হয় তবে ১০০ বার ক্ষমা চাইতে রাজি আছি।’
অর্থাত্ তারা নিজেরাই স্বীকার করছেন যে তারা এই গর্হিত কাজটি করেছেন। এ প্রসঙ্গে কণ্ঠশিল্পী আসিফ বলেন, ‘পেন ড্রাইভ বা মেমোরি কার্ডে এভাবে গান বিনিময়ের বিষয়টি এখনও আইনসিদ্ধ না। আর সবচেয়ে বড় কথা এখানে শিল্পীদের জানতে হবে যে এই উপায়েও প্রকাশকরা অর্থ আয় করছে।’
অন্যদিকে রিপোর্টটি প্রকাশের পর থেকে বেশ ক’জন শীর্ষ স্থানীয় ব্যান্ড তারকা তাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নিন্দাও জানিয়েছেন। ব্যান্ড তারকা বাপ্পা মজুমদার বিষয়টির নিন্দা জানিয়ে বলেছেন এই বিষয়টি প্রতিহত করা উচিত।
এদিকে পুরো বিষয়টি টিভি চ্যানেলে প্রকাশ হওয়ার পর ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আরিফুর রহামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পারিবারিকভাবে মর্মাহত আছেন নিকটাত্মীয়ের অসুস্থতার কারণে তাই কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান। অন্যদিকে শাহেদ আলী পাপ্পু খবর প্রচারের পর থেকে তার নিজস্ব সেল ফোন বন্ধ রেখেছেন।
কিন্তু এই সুপরিকল্পিত জালিয়াতির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা জানা যায়নি। একদিকে সিডি বিক্রি হচ্ছে না বলে শিল্পীদের টাকা দিচ্ছেন না তারা, অন্যদিকে নিজেরাই সিডি বিক্রি না করে অবৈধভাবে পেন ড্রাউভে বিক্রির ব্যস্থা করছেন এবং প্রত্যেক দোকান থেকে এককালীন ৫০০০ টাকা এবং মাসিক ২০০০ টাকা চাঁদা তুলছেন। আর এই অর্থ কোনো শিল্পীকে নয়, গুটিকতক প্রকাশক ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছেন সুকৌশলে। আর মিডিয়ার সামনে এলেই মুখ শুকিয়ে বলছেন, ‘অডিও ব্যবসা খারাপ। আমরা চলতে পারছি না !’ এই প্রতারক চক্রের ভেতরে জিসিরিজ, ফাহিম মিউজিক, ইমপ্রেস অডিওসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে বাকি প্রায় সকল অডিও প্রতিষ্ঠান জড়িত আছে বলে জানা যায়। তবে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সিএমভি, লেজার ভিশন ও সিডি চয়েজ। আর এই নিন্দনীয় কাজের পর শিল্পীরা বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদ জানালেও সাংগঠনিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে ফাহিম মিউজিকের কর্ণধার মনির হোসেন বলেন, ‘আমাকেও ওরা তাদের চুরির সাথে একমত হয়ে স্বাক্ষর করতে বলেছিল। কিন্তু আমি রাজি হইনি। কারণ পুরো বিষয়টা আমার কাছে চরম অন্যায় বলে মনে হয়েছে। এত বড় জোচ্চুরি তাদের করা উচিত হয়নি। আমার কথা হলো যে পদ্ধতিই হোক না কেন, তার সাথে শিল্পী, সুরকার, গীতিকারদের অংশীদারিত্ব থাকতে হবে।’
জি-সিরিজের কর্ণধার নাজমুল হক ভূইয়া খালিদ বলেন, ‘আমি পুরো বিষয়টাতেই বিব্রত। কারণ ওরা অন্যায় করলেও একজন প্রকাশক হিসেবে আমিও এর দায় এড়াতে পারি না। এ ব্যাপারে সর্বসম্মতিক্রমে একটা সমাধানের পথ খুঁজতে হবে আমাদের।’
এদিকে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরে গত দুদিন ধরে সিরিজ রিপোর্ট করায় সেখানকার প্রতিনিধি নাহিদ হোসেন এবং হিরনকে একাধিক অচেনা নাম্বার থেকে হুমকি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। একই সাথে অভিযুক্ত প্রকাশকেরা অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলানোরও অনৈতিক অফার দিয়েছেন বলে জানান তারা। এই জটিল পরিস্থিতিতে নাজুক এই অডিও শিল্প বাঁচাতে অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটাই প্রত্যাশা করছেন এখন সকলে।
বি. দ্র . অডিও প্রকাশকদের এই অবৈধ কার্যকলাপ, শিল্পীর অধিকার আত্মসাত্ নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সাধারণ পাঠকদের মতামত আমরা প্রত্যাশা করছি। আপনাদের যৌক্তিক মতামত আমরা বিনোদন প্রতিদিনে প্রকাশ করব।
