বর্তমানে দেশের ৭৭ শতাংশ মানুষ আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় এসেছে। আর গ্রামাঞ্চলের যেসব পরিবারে ক্ষুদ্র উদ্যোগ প্রকল্প রয়েছে তাদের গড় আয় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। ক্ষুদ্র ঋণদান প্রতিষ্ঠান না থাকলে বর্তমানের তুলনায় গড় দারিদ্র্যের হার পাঁচ শতাংশ এবং অতিদরিদ্র নয় শতাংশের বেশি বেড়ে যেত। তাই দরিদ্র মানুষকে আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্ত করতে ক্ষুদ্র ঋণের আওতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
রাজধানীর আগারগাঁও-এ পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র ঋণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী জাতীয় সেমিনারের প্রথম দিনে বিভিন্ন সেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফিন্যান্স (আইএনএম) এ সেমিনারের আয়োজন করে। আইএনএমের গবেষণায় পাওয়া তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে নীতি-নির্ধারণমূলক আলোচনায় অবদান রাখতে এ সম্মেলনের আয়োজন। গতকাল সকালে সেমিনারের উদ্বোধন করেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। মোট চারটি সেশনে প্রথম দিনের সম্মেলন শেষ হয়। আজ আরও তিনটি সেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি।
বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি শীর্ষক প্রথম সেশনের সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ড. খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ব্যাংক এবং এমএফআইর পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের তফাত্ রয়েছে। এর মধ্যে আবার বর্তমানের ঋণ প্রবৃদ্ধি ভালো না। তাই এমএফআইর মাধ্যমে কিভাবে সেবা আরও বাড়ানো যায় সে উপায় বের করতে হবে।
এ সেশনের মূল প্রবন্ধে আইএনএমের নির্বাহী পরিচালক বাকী খলীলী সংস্থার গবেষণায় উঠে আসা তথ্যগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে ক্ষুদ্র ঋণদান প্রতিষ্ঠানগুলো। এক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংক ও কো-অপারেটিভের ভূমিকা খুবই সামান্য। আকারের তুলনায় ব্যাংকগুলোর গ্রামীণ শাখা কম থাকায় এমন হচ্ছে। গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে ৪৩ শতাংশ উদ্যোক্তা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ না নিয়ে ব্যবসা করছেন। এদের মধ্যে ২৩ শতাংশ ঋণ পান না। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিআইবিএমের ডিজি তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘অর্থায়নের সুযোগ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ শীর্ষক দ্বিতীয় সেশনে অংশ নিয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে ক্ষুদ্র ঋণদান প্রতিষ্ঠানের আওতা বাড়াতে হবে। তাতে কর্মসংস্থান ও এসব প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়বে। আবার প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্পন্ন পণ্য আনতে হবে। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোকে উদার হতে হবে।
