রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সঙ্কট ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রধান বাধা বলে মনে করছেন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক গোল টেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তারা। এছাড়া অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জমির স্বল্পতা, যানজট ও দ্রুত সরকারি নীতি পরিবর্তনকেও বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেন বিনিয়োগকারীরা।
ডিসিসিআই সভাপতি মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন গ্রামীণফোনের সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) বিবেক সুদ, সান্তোস বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু ডি গ্যারিসসহ দেশি-বিদেশি অনেক বিনিয়োগকারী। এসময় বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোরিয়ান ইপিজেডের প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর সাদাত।
বিবেক সুদ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে টেলি কমিউনিকেশন খাত বিভিন্নভাবে অবদান রেখে যাচ্ছে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ দূর করতে পারলে এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব, অর্থনৈতিক কাজের স্বাধীনতার অভাব এবং উচ্চ কর হারকে উল্লেখ করেন তিনি।
অ্যান্ড্রু গ্যারিস বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবকাঠামো দুর্বলতা বেশ ভাবিয়ে তুলে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, নীতির পরিবর্তন এবং দুর্নীতি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা।
ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসাইন খালেদ বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হলো গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ পাওয়া যাবে কিনা ও তা কতদিন পর্যন্ত পাওয়া যাবে এ ধরনের কোন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। তাছাড়া কোন লাইসেন্স পাওয়া ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং যানজট বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা।
ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের আরেকটি কারণ। তবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে রাখতে হলে সরকারকে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন এবং জমি সরবরাহে উদ্যোগী হতে হবে।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতার উদাহরণ দিয়ে জাহাঙ্গীর সাদাত বলেন, কোরিয়ান ইপিজেডের জমি হস্তান্তর দলিল, পরিবেশগত সার্টিফিকেট, আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত সার্টিফিকেট পেতে প্রায় ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। যেখানে অন্য দেশে সাধারণত ১ সপ্তাহের মধ্যেই এসব সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।
