ভূ-গর্ভ হয়ে দেশের অভ্যন্তরে দ্রুত লবণ পানি অনুপ্রবেশ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) কর্মকর্তারা। এতে ফসলহানিসহ নানা আশঙ্কা করছেন তারা।
বাপার উদ্যোগে গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি গোলটেবিল লাউঞ্জে ‘ভূ-গর্ভ হয়ে দেশের অভ্যন্তরে দ্রুত অনুপ্রবেশ করছে লবণ পানি ঃ একটি ফলো-আপ প্রতিবেদন’ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাপার সহ-সভাপতি ও পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমদ-এর সভাপতিত্বে সম্মেলনে মূল বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কৃষি-পানি-পরিবেশ প্রকৌশলী ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সেফগার্ড এন্ড গভর্নেন্স পরামর্শক ড. মো. ইফতেখারুল আলম। অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ওয়ায়েস কবীর, সূচনা বক্তব্য রাখেন বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন।
ড. ইফতেখারুল আলম বলেন, ২০১০ সালের গবেষণায় জানা যায় যে, ভূ-গর্ভ হয়ে দক্ষিণের লবণ পানি ধীর গতিতে দেশের মূল ভূ-খণ্ডের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। দ্রুত শিল্পায়নের কারণে গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ এলাকায় অতিরিক্ত হারে বছরব্যাপী পানি উত্তোলন করায় ঐ এলাকার পানিও সমুদ্রের গড় উচ্চতার নিচে নেমে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও এই নিম্নগামিতার হার ঢাকার নিম্নগামিতার হারের কাছাকাছি চলে এসেছে। অর্থাত্ ঢাকার ভূ-গর্ভস্থ’ ফাঁকা জায়গা মিঠা পানি দ্বারা পূরণের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। ভবিষ্যতে ঢাকার ভূ-গর্ভস্থ’ ফাঁকা জায়গায় লবণ পানির অনুপ্রবেশ ঘটবে; কিন্তু তা রোধ করার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে ২০ বছর বা ৫০ বছর পর যখনই ঢাকার ফাঁকা ভূ-অভ্যন্তর লবণ পানিতে পূর্ণ হবে, তখন শুধু পানীয় জলের (মিঠা পানি) অভাবে এই শহর জনশূন্য হয়ে পড়বে। পাশাপাশি পদ্মার দক্ষিণ পাড়ের বেশির ভাগ এলাকার মিঠা পানিভিত্তিক ইকোলজি পরিবর্তিত হয়ে লবণ পানিভিত্তিক হয়ে পড়বে। ফলে বর্তমানের গাছপালা বিলীন হয়ে যাবে ও চিরচেনা শস্য বিন্যাস (ক্রপিং প্যাটার্ন) হারিয়ে যাবে। জীবিকার অভাবে ক্রমেই এ এলাকার জনসংখ্যা হ্রাস পেতে থাকবে। নিকটবর্তী এলাকার জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সামাজিক অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হবে। আর যদি কখনো এরকম অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাহলে তা পুনরুদ্ধার করতে কত বছর লাগবে তা অনুমান করা খুবই কঠিন। কারণ বিষয়টি ঘটছে সম্পূর্ণ অদৃশ্যমান অবস্থায় ভূ-গর্ভে।
তিনি আরো বলেন, বুড়িগঙ্গার দৃশ্যমান পানি দূষণ কবে দূর করতে পারবো তা আমরা জানি না। সেক্ষেত্রে ঢাকার নদীর পানি ও ভূ-গর্ভস্থ পানি উভয়ই দূষিত হলে আমাদের কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়।
তিনি এবিষয়ে সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, বিগত দিনে গৃহীত পদক্ষেপ (যেমন-খালকাটা, ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা, রাবার ড্যাম, সেচ নিয়ন্ত্রক পাইপ সেনিপা), সেচ ব্যবস্থাপনায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ ইত্যাদি কর্মসূচির অধিকতর ও ফলপ্রসূ বাস্তবায়ন-এর পাশাপাশি আরো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অদৃশ্য এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা অবশ্যই সম্ভব হবে।
