‘কমলা কালেক্টিভ’ একটি লন্ডনভিত্তিক নাট্য এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। এর উদ্দেশ্য নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে না-বলা গল্পগুলো সবার গোচরে আনা।
প্রবাসী বাঙালি লেখক, গবেষক, অভিনেত্রী লিসা গাজী মূলত দীর্ঘদিন ধরেই একান্ত নিজের খেয়াল আর আগ্রহের বশেই ক’জন বীরাঙ্গনার ইন্টারভিউ নেন। তখন মূলত তা নিয়ে বড় ক্যানভাসে কিছু করার কথা ভেবে কিছু করেননি তিনি। একান্ত নিজস্ব ভাবনার আর তার প্রয়োগের জন্যই অবশেষে ৪ জন মিলে তৈরি করেন ‘কমলা কালেক্টিভ’ নামের ভিন্ন ধারার একটি সংগঠন। একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে দুই লাখের বেশি নারী ও কিশোরী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর যুদ্ধকৌশলের অংশ হিসেবে নির্বিচারে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হন। বাঙালির স্বাধীনতার যুদ্ধকে আমরা ডাকি জনযুদ্ধ বলে। মুক্তিযোদ্ধারা হয়ে ওঠেন সেই জনযুদ্ধের অগ্রসেনা, আর এই নারীরা চাপা পড়ে যান উপেক্ষার তলে। কারণ ধর্ষণ এই সমাজে এক অনন্ত ঘৃণার উত্স, ধর্ষক নয়! ধর্ষিত এই নারীরা চলে গিয়েছিলেন নীরবতা, বিচ্ছিন্নতা আর বিস্মৃতির অন্তরালে। ‘কমলা কালেক্টিভ’ ৪২ বছরের এই নীরবতার আড়াল ভেঙে ফেলতে চায়। নিজেদের দলের হয়ে এই ভিন্ন ধারার কিছু কাজ প্রসঙ্গে লিসা গাজী বলেন, ‘আমরা এবারই প্রথম কোনো প্রোডাকশন মঞ্চায়ন করলেও আমাদের প্রস্তুতি দীর্ঘদিনের। এ দেশে এ প্রজন্ম তথা আগামী প্রজন্মের এইসব জীবন্ত দলিলগুলো তো শেষ হতে চলেছে। আর আমরা যতই ‘বীরাঙ্গনা’ হিসেবে বিভিন্ন সভা সেমিনারে সম্মান দেওয়ার কথা বলি, সেই সম্মান বা সামাজিক স্বীকৃতি ততটুকুই থাকে যতদিন অবধি বীরাঙ্গনারা চুপ থাকেন। আমি এই অনুভূতির জায়গাটা নিয়ে সামাজিকভাবে সোচ্চার হতে চাই আমাদের মঞ্চায়নের ভেতরে। খুব অল্প সময়ের ভেতরে আলী যাকের, সারা যাকের, আক্কু চৌধুরীসহ অনেকে সহযোগিতা করেছেন। এ ছাড়া এই প্রকল্পের জন্য মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, দ্য ইএমকে সেন্টার, রেনাটা লিমিটেড, যাত্রিক, ক্রিয়েশনস আনলিমিটেড এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাঙ্কের সহযোগিতার জন্য আমরা ‘কমলা কালেক্টিভ’ অনেক কৃতজ্ঞ।’ উল্লেখ্য, আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরে এবং ১ সেপ্টেম্বরে ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টারে সন্ধ্যা ৭টায় ‘বীরাঙ্গনা’র মঞ্চায়ন হবে। বীরাঙ্গনা নাট্য প্রকল্পের কলাকুশলীরা হলেন—পাণ্ডুলিপি সামিনা লুত্ফা, গবেষণা ও ধারণা লিসা গাজী, নির্দেশনায় ফিলিয ওযকান, কবিতায় তারফিয়া ফায়যুল্লাহ, অভিনয়ে লিসা গাজী, আলোক পরিকল্পনা নাসিরুল হক খোকন, ডিজাইনার ক্যাটলিন অ্যাবোট, ভিডিওগ্রাফার ফাহমিদা ইসলাম, প্রোডাকশন ব্যবস্থাপক মো. ফখরুজ্জামান চৌধুরী, মঞ্চ ব্যবস্থাপক ডমিনিক গোমস, শব্দ পরিকল্পনায় আহসান রেজা, লাবিক কামাল গৌরব, কণ্ঠশিল্পী সোহিনী আলম।
