এশিয়া কাপ হকি

কোরিয়ার কাছে হারের ব্যবধান কমেনি বাংলাদেশের

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:১১
বাংলাদেশ দলের নবম এশিয়া কাপ অভিযান শুরু হলো হার দিয়ে। গতকাল রবিবার মালয়েশিয়ার ইপো শহরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৯-০ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ দল। আজ বি গ্রুপে দ্বিতীয় ম্যাচে বিকাল চারটায় ওমানের মুখোমুখি হবে দেশের দলটি। এশিয়া কাপ হকির আসরে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২০০৯ সালেও একই ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। মাঝে চার বছর পেরিয়ে গেলেও কোরিয়ার কাছে হারের ব্যবধান কমেনি। তার আগে অবশ্য চতুর্থ এশিয়া কাপে কোরিয়ানদের ১-১ গোলে ড্রয়ে বাধ্য করেছিল বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। এমনকি তৃতীয় এশিয়া কাপেও ব্যবধান ছিল ৭-০। অতীত সাফল্য বিস্মৃত হয়েই তাই এ খেলাটির আগ পর্যন্ত দেশের ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে আলোচনা ছিল স্কোর বোর্ডে ব্যবধানটা কি দাঁড়ায়। চার কিংবা পাঁচ গোলে হারলে ব্যাপারটায় অগ্রগতি বোঝাত। কিন্তু অনুরাগীদের হতাশ করে বাংলাদেশ কাল কোরিয়ার কাছে দাঁড়াতেই পারল না। কোরিয়া জানিয়ে দিল আন্তর্জাতিক হকি অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানটা কোথায়। বেগুনী রংয়ের নতুন টার্ফে পুরো ম্যাচটাই ছিল তাদের মুঠোয়। বল পজিশনে কোরিয়া ৭৯ ভাগ সময় এগিয়ে ছিল। কোরিয়া বাংলাদেশের সীমানায় ২০ বার আক্রমণ করেছে আর বাংলাদেশ দুইবার। গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ২১ বার হিট করেছে। বাংলাদেশের হিট গুনে বের করা হয়েছে চারটি। এই চারটি হিটের আগেই প্রথমার্ধে বাংলাদেশ চার গোলে পিছিয়ে পড়ে। কোরিয়ানরা ১৪টি পেনাল্টি কর্নার পেয়েছে। তা থেকে গোল করেছে চারটি। এ হিসাবগুলো বলে দেয় বাংলাদেশের উপর দিয়ে কী পরিমাণ ঝড় গেছে। আর সেই ঝড়ের মোকাবেলা করেছেন গোলকিপার জাহিদ। পোস্টের সামনে অদক্ষ গোলকিপার থাকলে গোল হতে পারত আরো হাফ ডজন। জাহিদ বল ঠেকাতে ঠেকাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। আক্রমণভাগে কোরিয়ান ডিফেন্ডাররা জিমি, কামরুজ্জামান রানা, কৃষ্ণ কুমারদের বন্দী করে রাখেননি। রাখার প্রয়োজন হয়নি। কারণ কোরিয়া বাংলাদেশকে এমনভাবে আক্রমণ করে চেপে ধরেছিল যে, তারা উঠে আসার সুযোগ পাচ্ছিল না। পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশ বল নিয়ে কোরিয়ার সীমানায় এসেছিল ৫৬তম মিনিটে। কৃষ্ণ কুমার রিভার্স হিট নিতে গেলে বলটা স্টিকেই লাগাতে পারেননি। টিভির পর্দায় দেখা গেল সব মিলিয়ে তিনবার বল পেয়েছিলেন তিনি এবং প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছেন। সেগুলো কাজে লাগলেও হার এড়ানো যেত না, তবে শিরোপাধারীদের সাথে হারের ব্যবধানটা কমে আসতো। এমন বড় দলের বিরুদ্ধে গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে না লাগাতে পারাটা বিরাট ব্যর্থতাই বলা যায়। বাংলাদেশের আরেকটি দুর্ভাগ্য হলো, কোরিয়ার বিরুদ্ধে একটি পেনাল্টি কর্ণারও না পাওয়া। পেনাল্টি কর্ণার স্পেশালিস্ট খ্যাত বাংলাদেশের অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন কোনো সুযোগই পেলেন না। প্রচুর ভুল পাস ছিল বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। হারের বিষাদের মধ্যেই চয়নের দল আজ ওমানের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে। এ ম্যাচটি বাংলাদেশ শিবিরে খানিকটা স্বস্তি এনে দিতে পারে, প্রত্যাশিত জয় দিয়ে।